জস্ব প্রতিবেদন, দিল্লি: জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’র মতোই এবার জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট বিধিমালা জারি করল কেন্দ্র। বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জারি করা এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এখন থেকে সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় গান পরিবেশনের সময় সকলকে সশ্রদ্ধভাবে উঠে দাঁড়াতে হবে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী এই রচনার ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের আবহেই এই ঐতিহাসিক ঘোষণা করল মোদী সরকার।
সময় ও গাওয়ার বিধি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, বন্দে মাতরমের মোট ছ’টি স্তবক পরিবেশন করতে হবে ১৯০ সেকেন্ড বা ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের মধ্যে। সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উন্মোচন, রাষ্ট্রপতির আগমন ও প্রস্থান, জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং কুচকাওয়াজ বা নাগরিক সম্মান প্রদানের সময় এই গান পরিবেশন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, যেখানে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গান উভয়ই গাওয়া হবে, সেখানে জাতীয় সঙ্গীতের আগেই বন্দে মাতরম গাইতে হবে।
স্কুল ও সিনেমার ক্ষেত্রে নিয়ম: সরকারি অনুষ্ঠানের পাশাপাশি স্কুলগুলিতেও প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবে বা বিশেষ অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় গান গাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে সিনেমার ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ১০ পাতার ওই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, সিনেমার অংশ হিসেবে যদি জাতীয় গান পরিবেশিত হয়, তবে দর্শকদের উঠে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক নয়। প্রেক্ষাগৃহে বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিল। ১৮৭৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গান প্রথম ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে প্রকাশিত হয়। ১৮৯৬ সালে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গান প্রথম গেয়েছিলেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান এই মন্ত্রকে সংবিধান সমান মর্যাদা দিলেও, এতদিন নির্দিষ্ট গাওয়ার বিধি ছিল না। গত জানুয়ারিতে অমিত শাহের মন্ত্রকে বরিষ্ঠ আধিকারিকদের বৈঠকের পরেই এই নতুন নিয়ম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।