‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’র আওতায় যাঁরা আসতে পারছেন না, তাঁদের জন্য ঘোষিত ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’-র বিজ্ঞপ্তি জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শনিবার স্বাস্থ্য ভবনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন প্রকল্পের যোগ্যতা, শর্ত এবং সুবিধার বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হলেও যাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’র সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁরা এই নতুন স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল ব্যয়বহুল ও জটিল রোগের চিকিৎসার খরচের কারণে সাধারণ মানুষ যাতে আর্থিক সংকটে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা।
কী কী সুবিধা মিলবে?
এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবে। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য আলাদা স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হবে। আগে থেকে থাকা রোগ বা শারীরিক সমস্যাও এই বিমার আওতায় থাকবে। তবে চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনও রিইম্বার্সমেন্ট (Reimbursement) সুবিধা থাকবে না। সম্পূর্ণ চিকিৎসাই হবে ক্যাশলেস পদ্ধতিতে।
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না?
স্বাস্থ্য ভবনের বিজ্ঞপ্তিতে একাধিক শর্তের উল্লেখ করা হয়েছে। যাঁদের পারিবারিক বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ টাকার বেশি, তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন না।
এ ছাড়াও নিম্নলিখিত ব্যক্তিরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না—
- ওয়েস্ট বেঙ্গল হেল্থ স্কিম, ২০০৮-এর সুবিধাভোগী
- কেন্দ্রীয় সরকারের সিজিএইচএস (CGHS)-এর অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি
- ইএসআই (ESI) প্রকল্পের সুবিধাভোগী
- কেন্দ্র বা রাজ্যের পাবলিক সেক্টর সংস্থা, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা নগর স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্যবিমার আওতাভুক্ত কর্মী বা পেনশনভোগী
- নিয়মিত চিকিৎসা ভাতা প্রাপক
- ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ নাগরিক
- এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া বা স্থানান্তরিত ব্যক্তিরা
তবে যাঁদের সিএএ (CAA) বা এসআইআর ট্রাইব্যুনালে আবেদন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল ব্যবস্থার উপর জোর
সরকার জানিয়েছে, প্রকল্পটির সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। নাম নথিভুক্তকরণ, হাসপাতালে ভর্তি ও ছুটির সময় আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক বা ডিজিটাল যাচাইকরণ এবং ABHA ID ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত নির্দেশিকা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের নিয়ম অনুসরণ করেই কার্যকর হবে।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর বিজ্ঞপ্তি
চলতি মাসের গোড়ায় রেজিনগরের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, যাঁরা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না, তাঁদের জন্য রাজ্য সরকার এই নতুন স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু করছে, যাতে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যাবে। গত বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভা প্রকল্পে অনুমোদন দেয়। তার পরেই শনিবার স্বাস্থ্য ভবনের তরফে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হল।
রাজ্য সরকারের আশা, নতুন এই প্রকল্প চালু হলে আয়ুষ্মান ভারতের বাইরে থাকা বহু পরিবার উন্নত চিকিৎসার আর্থিক সুরক্ষা পাবে।