বিধানসভা ভোটের আগে বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিল নওশাদ সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। সোমবার ফুরফুরা শরিফ থেকে প্রথম দফায় ২৩টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল দল।
প্রত্যাশামতো ভাঙড় কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি নিজেই। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য আইএসএফে যোগ দেওয়া আরাবুল ইসলামকে ক্যানিং পূর্ব আসনে প্রার্থী করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে সবচেয়ে বড় চমক জোট রাজনীতিতে। বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত ২৯টি আসনে সমঝোতা হয়, তবুও চারটি আসন—নন্দীগ্রাম, পাঁশকুড়া পশ্চিম, ভগবানগোলা এবং মুরারই—নিয়ে মতভেদ থেকেই যায়। এর মধ্যেই আইএসএফ সোমবার ঘোষিত তালিকায় ভগবানগোলা বাদে বাকি তিনটি আসনেই নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
ফলে স্পষ্ট, এই তিন আসনে বামফ্রন্টের শরিক সিপিএম এবং আইএসএফের মধ্যে সরাসরি লড়াই হতে চলেছে। এই সিদ্ধান্তে বাম শিবিরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের খবর। রাজনৈতিক মহলের মতে, এর ফলে জোটে নতুন করে জটিলতা তৈরি হল।
এদিকে প্রার্থী তালিকায় সামাজিক ভারসাম্যের দিকেও নজর দিয়েছে আইএসএফ। ঘোষিত ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে সাতজনই হিন্দু, যা মোটের উপর ৩০ শতাংশের বেশি। অশোকনগরে তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, আমডাঙায় বিশ্বজিৎ মাইতি, মধ্যমগ্রামে প্রিয়াঙ্কা বর্মন, শালবনিতে শিক্ষক পীযূষ হাঁসদা, বারাবনিতে বিশ্বজিৎ বাউড়ি এবং বোলপুরে অধ্যাপক বাপি সরেনকে প্রার্থী করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে আইএসএফের এই প্রার্থী তালিকা শুধু নির্বাচনী লড়াইকেই নয়, জোট রাজনীতির সমীকরণকেও নতুন করে নাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।