ইমন কল্যাণ সেন: পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ মঞ্চ থেকেই সামাজিক ভারসাম্যের স্পষ্ট বার্তা দিল গেরুয়া শিবির। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই তাঁর প্রথম মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন বিভিন্ন সম্প্রদায় ও অঞ্চলের প্রতিনিধিরা। মতুয়া, কুড়মি, রাজবংশী থেকে আরএসএস ঘনিষ্ঠ নেতা—সবাইকে গুরুত্ব দিয়ে ‘এক ভারত’-এর বার্তা তুলে ধরতে চাইল বিজেপি।
মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে গুরুত্ব দিয়ে বনগাঁ উত্তরের জয়ী অশোক কীর্তনিয়া-কে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ঠাকুরবাড়ির বাইরে বৃহত্তর মতুয়া সমাজের প্রতিনিধিত্ব তুলে ধরতেই এই সিদ্ধান্ত। এসআইআর পর্বের পর মতুয়া ভোট যে বিজেপির দিকে বড় ভূমিকা নিয়েছিল, তা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, জঙ্গলমহল ও পশ্চিমাঞ্চলে কুড়মি সমাজের প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী করা হয়েছে ক্ষুদিরাম টুডু-কে। ব্রিগেডের মঞ্চে তিনি সাঁওতালি ভাষায় শপথ নিয়ে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন আদিবাসী ও জনজাতি সমাজকে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বিজেপির সাফল্যের পিছনে কুড়মি ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক। রাজবংশী সমাজের মধ্যে তাঁর প্রভাব যথেষ্ট বলেই মনে করে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি মহিলা মুখ হিসেবে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়েছে অগ্নিমিত্রা পাল-কে। আরএসএস ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘদিনের সংগঠক দিলীপ ঘোষ-কেও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দেওয়া হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভায়। বাংলায় বিজেপির সংগঠন বিস্তারে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলেই মনে করে দল। সব মিলিয়ে, শুভেন্দুর প্রথম মন্ত্রিসভা শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও সাংগঠনিক ভারসাম্যের বার্তাও বহন করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।