প্রায় ৪৯ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে ফিরছে তথাকথিত ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। অর্থাৎ, কেন্দ্র এবং রাজ্যে একই রাজনৈতিক দলের সরকার। শুক্রবার বিজেপির বিধায়কদলের বৈঠকে অধিকারীকে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করার পরই স্পষ্ট হয়ে যায়, তিনিই হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নেবে নতুন সরকার।
স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় কংগ্রেসের শাসনে ছিল পশ্চিমবঙ্গ। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রে এবং রাজ্যে কংগ্রেস সরকার থাকলেও, তারপর থেকে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়। ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্র ও রাজ্যে আর একই দলের সরকার দেখা যায়নি। পরে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় এলেও কেন্দ্রে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সরকার ছিল। সেই হিসেবে প্রায় পাঁচ দশক পর বাংলায় ফের কেন্দ্র-রাজ্যের একই দলের সরকার গঠিত হতে চলেছে।
বিজেপির প্রচারে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর প্রসঙ্গ বারবার উঠে এসেছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছিলেন, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ বা রাজস্থানের মতো পশ্চিমবঙ্গও একই দলের কেন্দ্র-রাজ্য সরকারের সুবিধা পাবে। শুক্রবার বিধায়কদলের বৈঠকের পর শুভেন্দুও সেই বার্তাই সামনে আনেন।
ভাবী মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর স্বপ্নপূরণই হবে আমাদের লক্ষ্য।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে মোদীর জনপ্রিয় স্লোগান— ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ, সব কা বিশ্বাস, সব কা প্রয়াস’। শুভেন্দুর দাবি, কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ে বাংলার উন্নয়ন ও পুনর্গঠনই হবে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারকে সামনে রেখে বিজেপি উন্নয়ন, কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের বার্তা দিতে চাইছে। তবে এই নতুন সমীকরণ বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।