নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন নবনিযুক্ত মন্ত্রীরা। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্বপন দাশগুপ্ত। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কারের বার্তা দিয়েছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
রাসবিহারী কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর গত ১ জুন পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন স্বপন দাশগুপ্ত। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর বৃহস্পতিবারই উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন তিনি। তার আগে সাংবাদিক বৈঠকে নিজের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন নতুন অর্থমন্ত্রী।
স্বপন দাশগুপ্ত জানান, প্রথম দিন থেকেই তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন এবং রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “সবার সঙ্গে কথা বলে আগে সমস্যার কথা জানতে হবে। সব জিনিস বোঝার চেষ্টা করছি। শিলিগুড়িতে গিয়ে চা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলব।”
রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি আগের সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, রাজস্ব বৃদ্ধির প্রয়োজন থাকলেও সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো উচিত নয়। স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “কর না বাড়িয়ে রাজ্য সরকারের আয় বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আগে সব জিনিসের ওপরই কর চাপিয়ে দেওয়া হত। এখন সেটা যেন না করা হয়, তা দেখতে হবে।”
তিনি আরও জানান, রাজ্যের আর্থিক নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোথায় কী ধরনের ঘাটতি বা খামতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিকে উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েই শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরেছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে শিক্ষাক্ষেত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির অঙ্গীভূতকরণ, একত্রীকরণ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতির (NEP) বিভিন্ন বিষয় পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “শিক্ষাক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়েছে সব থেকে বেশি। সেই কারণে আমাদের এই অঙ্গীভূত করা, একত্রীকরণ করা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষানীতির প্রতিটি বিষয়কে হুবহু এখানে প্রয়োগ করব। যাতে বাংলার ছাত্রছাত্রীরা দেশের অন্য প্রান্তের শিক্ষার্থীদের মতো একই সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, একসময় পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে দেশের পথপ্রদর্শক ছিল। আগামী পাঁচ বছরে সেই মর্যাদা পুনরুদ্ধার করাই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “আমাদের লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ অধিনায়কত্ব করবে। সেই জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য যা যা করণীয়, আমরা করব।”
নতুন সরকারের দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, একদিকে রাজ্যের আর্থিক পুনর্গঠন এবং অন্যদিকে শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কার—এই দুই বিষয়কেই আগামী দিনের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে সরকার।