প্রথম পাতা খবর হাই কোর্টের নির্দেশের পর ভবানী ভবনে অভিষেক, সই-কাণ্ডে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক

হাই কোর্টের নির্দেশের পর ভবানী ভবনে অভিষেক, সই-কাণ্ডে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক

8 views
A+A-
Reset

বিধানসভার সই জাল-কাণ্ডের তদন্তে অবশেষে সিআইডির মুখোমুখি হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি ভবানী ভবনে পৌঁছে যান। বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট নাগাদ তাঁর গাড়ি সিআইডি সদর দফতরে পৌঁছয়।

ভবানী ভবনে পৌঁছে প্রথমে কোনও মন্তব্য না করেই সরাসরি দফতরের ভিতরে প্রবেশ করেন অভিষেক। পরে তাঁকে আবার প্রধান ফটকে ফিরে এসে উপস্থিতির নথিতে সই করতে দেখা যায়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর ফের দফতরের ভিতরে প্রবেশ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবারই দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরেন অভিষেক। বিকেল ৪টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁর বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে নামে। সেখান থেকে প্রথমে কালীঘাটের বাড়িতে যান তিনি। পরে সেখান থেকে সরাসরি ভবানী ভবনের উদ্দেশে রওনা দেন।

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত একটি চিঠিতে সই জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে তদন্ত করছে সিআইডি। অভিযোগ, তৃণমূল পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষরে অসঙ্গতি রয়েছে। কয়েকজন বিধায়ক দাবি করেছেন, তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। আবার কিছু নাম ব্লক লেটারে লেখা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ওই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল।

এই মামলায় এর আগে একাধিকবার সিআইডির তলব এড়িয়েছিলেন অভিষেক। একবার শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চেয়েছিলেন তিনি। পরে রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য শহরের বাইরে থাকার কথাও জানান। এরই মধ্যে গ্রেফতারের আশঙ্কায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে মামলার শুনানিতে আদালত নির্দেশ দেয়, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অভিষেককে ভবানী ভবনে হাজিরা দিতে হবে এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। তবে একই সঙ্গে আদালত জানিয়ে দেয়, আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না সিআইডি। মামলার পরবর্তী শুনানি দু’সপ্তাহ পরে। ততদিন পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার উপর কার্যত স্থগিতাদেশ রয়েছে।

এদিকে শুনানির আগেই এই মামলায় অভিষেকের আইনজীবীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকাশ্যে তিনি অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর ‘ঔদ্ধত্য’-এর সমালোচনা করেন। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের এবং অভিষেকের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার কথাও বলেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে।

অভিষেকের হাজিরাকে কেন্দ্র করে ভবানী ভবনে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং র‌্যাফ মোতায়েন করা হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কাঁদানে গ্যাসও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর।

উল্লেখ্য, সই-কাণ্ডের তদন্তে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের তিন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করেছে সিআইডি। তদন্তকারীরা এখন অভিষেকের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের তথ্য মিলিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.