তারকেশ্বর: পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মঞ্চ থেকে রাজ্যের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদের বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার হুগলির তারকেশ্বরে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও কুশাসনের পর পশ্চিমবঙ্গে এখন উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের হাত ধরে রাজ্য দ্রুত এগিয়ে যাবে বলেও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যপাল আর এন রবি এবং রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিক।
বক্তৃতার শুরুতেই বাংলায় রাজ্যবাসীর উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পরিবর্তন ভাল লাগছে তো?” এরপরই নতুন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মোদী দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন উন্নয়নের গতি অনেক বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষ তার সুফল পেতে শুরু করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের হাওয়ায় এখন নতুন সতেজতা। নতুন সুগন্ধ আসছে। বাংলার গৌরব ফিরতে শুরু করেছে। মানুষের একটি ভোট কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে, পশ্চিমবঙ্গ তার উদাহরণ।”
মোদীর বক্তব্যে উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্বও। তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখার যে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল, তা বাঙালির আত্মপরিচয় ও অস্তিত্ব রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
এই প্রসঙ্গে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, শ্যামাপ্রসাদের দূরদর্শিতা ও নেতৃত্ব না থাকলে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ অন্য রকম হতে পারত। তরুণ প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পূর্বতন সরকারগুলির সমালোচনা করে মোদী বলেন, “দশকের পর দশক পশ্চিমবঙ্গকে অবৈধ অনুপ্রবেশ, তোষণনীতি ও দুর্বল প্রশাসনের শিকার হতে হয়েছে। শিল্প, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্য পিছিয়ে পড়েছে।”
টাটা গোষ্ঠীর সিঙ্গুর প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, শিল্পায়নের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় বাংলার যুব সমাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর কথায়, “যে বাংলা ভারতের বিকাশের নেতৃত্ব দিতে পারত, সেই বাংলা ক্রমশ পিছিয়ে গিয়েছে। তবে এখন নতুন ইতিহাস লেখার সময় এসেছে।”
নতুন সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন মোদী। আয়ুষ্মান ভারত যোজনা, অন্নপূর্ণা যোজনা, মহিলাদের বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, জনকল্যাণ শিবির এবং সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার নির্মাণের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রকল্প সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এদিন প্রধানমন্ত্রী একাধিক সরকারি প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে রয়েছে হাওড়া ডিভিশন হাসপাতাল, হাওড়া-রাধামোহনপুর রেল ওভারব্রিজ, ডিজিটাল কৃষি মিশন, প্রধানমন্ত্রী ফসলবিমা যোজনা, রাষ্ট্রীয় প্রাকৃতিক কৃষি মিশন এবং প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য কৃষি যোজনা। তাঁর দাবি, এই প্রকল্পগুলি রাজ্যের কৃষি, পরিকাঠামো, পরিবহণ ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
বক্তৃতার শেষ লগ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ বার বাংলা থামবে না। পশ্চিমবঙ্গ এখন নতুন ইতিহাস গড়বে। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং আত্মনির্ভরতার পথে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে।”
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।