তৃণমূল কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ ভাঙন ও রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে পশ্চিমবঙ্গের তিনটি রাজ্যসভা আসনে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৪ জুলাই ওই তিনটি শূন্য আসনে ভোটগ্রহণ হবে। কমিশনের ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, কারণ বর্তমান বিধানসভা সমীকরণে তিনটি আসনই বিজেপির ঝুলিতে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই এই তিনটি আসন নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও প্রকট হয়। তারই জেরে প্রথমে ভাঙন দেখা দেয় বিধানসভার পরিষদীয় দলে, পরে লোকসভা এবং রাজ্যসভাতেও তার প্রভাব পড়ে।
রাজ্যসভার সাংসদপদ থেকে প্রথম ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর রায়। গত ৮ জুন থেকে তাঁর আসনটি শূন্য রয়েছে। এরপর ১০ জুন ইস্তফা দেন সুস্মিতা দেব এবং ১১ জুন পদত্যাগ করেন প্রকাশচিক বরাইক। পদত্যাগের পর প্রকাশচিক প্রকাশ্যে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, সুস্মিতা দেবকে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা যায়। সুখেন্দুশেখরকেও লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৪ জুলাই মনোনয়ন জমার শেষ দিন। ১৫ জুলাই মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করা হবে এবং ১৭ জুলাই পর্যন্ত প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করা যাবে। ২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ওই দিনই বিকেল ৫টা থেকে ভোটগণনা শুরু হবে। আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান বিধানসভা সমীকরণে বিজেপির অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ২০৮। সেই হিসাবে দলটি তিন জন প্রার্থী দিলে এবং কোনও ভোট নষ্ট না হলে, তিন জন প্রার্থী যথাক্রমে ৭০, ৬৯ এবং ৬৯টি ভোট পেতে পারেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্রস ভোটিং হলে সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের সম্মিলিত শক্তি বর্তমানে ৮০ বিধায়ক। তবে দলের পরিষদীয় শিবির বিভক্ত থাকায় পরিস্থিতি জটিল। দুই শিবির একজোট হয়ে কোনও একক প্রার্থীকে সমর্থন করলে একটি আসনে লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। যদিও বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে সেই সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ফলে, তৃণমূলের ভাঙনের আবহে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই রাজ্যসভা উপনির্বাচন শুধু তিনটি শূন্য আসনের নির্বাচন নয়, বরং রাজ্যের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতারও এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।