কলকাতা: ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় দু’মাস পর অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিয়োবার্তায় তিনি নতুন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে শুভেচ্ছাবার্তা দেন। একই সঙ্গে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও মন্ত্রী ছিলেন বলেও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
গত ৪ মে ভবানীপুর কেন্দ্রের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ ছিল, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তবে শনিবারের বার্তায় নতুন সরকারকে কার্যত স্বীকৃতি দিলেও ভোটে অনিয়মের অভিযোগ থেকে একচুলও সরেননি তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর নাম সরাসরি উল্লেখ না করে মমতা বলেন, “যিনি আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, তাঁকে আমার অনেক শুভেচ্ছা। আপনিও নির্বাচনে অনেকবার হেরেছেন। আপনার জন্য আমিও বারবার আপনার কেন্দ্রে গিয়েছি। সেটা আমার কর্তব্য ছিল, এর জন্য আমি কোনও কৃতিত্ব নিচ্ছি না।”
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। মমতার কথায়, “আপনি প্রায় ১০-১১ বছর তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক এবং মন্ত্রী ছিলেন। পরিবহণ, সেচ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব সামলেছেন। বিভিন্ন জেলার দায়িত্বে ছিলেন। জেলা পরিষদ, গ্রামসভা ও পঞ্চায়েত গঠনে ভূমিকা নিয়েছেন। হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদ এবং দিঘা উন্নয়ন পর্ষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও আপনাদের হাতে ছিল।”
তবে শুভেচ্ছাবার্তার পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে ফের ভোটে কারচুপির অভিযোগ তোলেন মমতা। তিনি বলেন, “বিজেপি ভোট লুট করে ক্ষমতায় এসেছে, এটা আমরা সবাই জানি। তা সত্ত্বেও আমরা বলেছি, নতুন সরকার এসেছে, তারা কাজ করুক। কিন্তু কাজের বদলে আমরা দেখছি সুস্থ মানুষকে অসুস্থ করে দেওয়ার প্রবণতা চলছে, সন্ত্রাস শুরু হয়েছে।”
কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিজেপি সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “অত্যাচার করবেন না। মনে রাখবেন, প্রতিটি কাজের প্রতিক্রিয়া রয়েছে। যত অত্যাচার করবেন, আমরা তত শক্তিশালী হব।”
এছাড়াও, হকার উচ্ছেদ, মূল্যবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার দিকে নজর দেওয়ার জন্যও নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মমতা। তিনি বলেন, “সরকার এই বিষয়গুলির দিকে গুরুত্ব দিক। গঠনমূলক কাজে আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে। আমি কখনও গঠনমূলক কাজের বিরোধিতা করি না।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই শুভেচ্ছাবার্তার মাধ্যমে একদিকে যেমন নতুন সরকারের প্রতি আনুষ্ঠানিক সৌজন্য দেখালেন মমতা, তেমনই বিরোধী রাজনীতির প্রধান মুখ হিসেবে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করে দিলেন।