কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের কালীঘাটপন্থী সংগঠনে ফের বড় রদবদল। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের আকস্মিক ইস্তফার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলের রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব নিজেই গ্রহণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে কালীঘাটের দলীয় কার্যালয় থেকে ফেসবুক লাইভে এসে এই ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি, সংগঠনের কাজ পরিচালনায় সহায়তার জন্য দলের দুই নতুন রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের নামও ঘোষণা করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁরা হলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ইস্তফার জেরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিলেন মমতা। শুক্রবার মেট্রোপলিটন ভবনে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে কালীঘাটপন্থী এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের মধ্যে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়। অভিযোগ, ঋতব্রতপন্থী নেতারা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।
সেই সময় দলের তৎকালীন রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে সেখানে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং থানায় অভিযোগও দায়ের করেন।
সূত্রের খবর, ঘটনার বিস্তারিত জানার পর চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে জবাবদিহি চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরই নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার অভিযোগ তুলে শনিবার সকালে দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেন চন্দ্রিমা। পরে তিনি বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকও করেন বলে জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কে চলে গেল, তাতে কিছু যায় আসে না। আমি নেতা চাই না, সাধারণ কর্মী চাই। দলের রাজ্য সংগঠন এখন আমিই চালাব। এত দিনও আমি প্রতিদিন পার্টি অফিসে বসতাম, কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতাম। এবার আরও বেশি সময় দেব।”
তিনি আরও জানান, সংগঠনের কাজ পরিচালনায় সুবিধার জন্য মদন মিত্র এবং কুণাল ঘোষকে রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ভবিষ্যতে দলীয় সংগঠনের কাজে তাঁকে সহায়তা করবেন।
উল্লেখ্য, মদন মিত্র বর্তমানে দমদম সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার ফলে তাঁর সাংগঠনিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
চন্দ্রিমার বিদায় এবং মমতার সরাসরি সংগঠনের দায়িত্ব গ্রহণ, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।