কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মীদের নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতি নিয়ে কড়া অবস্থান নিল নবান্ন। গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি কর্মীদের মধ্যে যাঁরা নির্ধারিত পরীক্ষা ছাড়াই বা নিয়ম ভেঙে লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক (LDC) থেকে আপার ডিভিশন ক্লার্ক (UDC) পদে উন্নীত হয়েছেন, তাঁদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে অর্থদপ্তর।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরি বা বর্তমান পদ আপাতত বাতিল করা হবে না। তবে তাঁদের বর্তমান পদ ‘এক্স ক্যাডার পোস্ট’ হিসেবে বিবেচিত হবে। পাশাপাশি নেতাজি সুভাষ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (NSATI)-এর অধীনে কম্পিউটার অপারেশন ও টাইপিং পরীক্ষায় বসে উত্তীর্ণ হতে হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষায় পাশ না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থগিত থাকবে। পরীক্ষায় সফল হলেই বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিসেস (রিক্রুটমেন্ট টু ক্লারিক্যাল ক্যাডার) রুলস, ২০১৯’ কার্যকর হওয়ার পর ৫০ বছরের বেশি বয়সী কর্মীদের জন্য কম্পিউটার অপারেশন ও টাইপিং পরীক্ষায় ছাড়ের বিধান তুলে দেওয়া হয়েছিল। তবু অভিযোগ, ২০১৯ সালের পরও বহু কর্মীকে ওই ছাড় দিয়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। সেই অনিয়মের প্রেক্ষিতেই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
তবে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে নতুন করে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেছে অর্থদপ্তর। আবার যাঁরা অবসরের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পরীক্ষায় ছাড়ের প্রস্তাব অর্থদপ্তরে পাঠানো হবে এবং প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে বিবেচনা করা হবে।
এছাড়া যেসব কর্মীর মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবারের গ্র্যাচুইটি বা অবসরজনিত অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পদোন্নতিকে কাল্পনিকভাবে পুনর্বহাল (Notional Restoration) করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, সরকারি চাকরিতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ করেছে নবান্ন।