কলকাতা: বারুইপুরে ধর্ষণ ও খুনের মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারের তদন্তভার রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর নিয়ম অনুযায়ী বিচারবিভাগীয় তদন্তও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, সিআইডি-র তদন্ত এবং বিচারবিভাগীয় তদন্ত—দুই প্রক্রিয়াই সমান্তরালভাবে চলবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় পৌনে ১টা নাগাদ অপরাধস্থলের পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান তদন্তকারী আধিকারিকেরা। অভিযোগ, সেই সময় ক্যানিং থানার পুলিশ সার্কলের ইনচার্জ রনি সরকারের কোমর থেকে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন প্রভাস। পুলিশ দাবি করেছে, ধাওয়া করলে তিনি এক রাউন্ড গুলিও চালান।
এরপর আত্মরক্ষার্থে বারুইপুর থানার পুলিশ সার্কলের ইনচার্জ অর্ঘ্য মণ্ডল সার্ভিস রিভলভার থেকে গুলি চালান বলে পুলিশের দাবি। প্রভাসের শরীরে দুটি গুলি লাগে—একটি বুকের ডান দিকে এবং অন্যটি কোমরের উপরে। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, যেহেতু এই এনকাউন্টার বারুইপুর পুলিশ জেলার অধীনে ঘটেছে, তাই নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে সেই জেলা পুলিশ তদন্ত করতে পারে না। সেই কারণেই তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই এনকাউন্টারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ঘটনাটিকে উত্তরপ্রদেশের অতীতের বিতর্কিত এনকাউন্টারগুলির সঙ্গে তুলনা করে ‘উত্তরপ্রদেশ ২.০’ বলে কটাক্ষ করেছে। অন্যদিকে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল পুলিশের ভূমিকাকে সমর্থন করেছে। কংগ্রেস ও সিপিএমও এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে।
এখন ঘটনার রাতে ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, পুলিশের দাবি কতটা সঠিক এবং এনকাউন্টারের সমস্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে সিআইডি। পাশাপাশি বিচারবিভাগীয় তদন্তের রিপোর্টও এই ঘটনার আইনি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।