জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যসভার সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে গিয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি সি.পি. রাধাকৃষ্ণণের হাতে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি। এরপরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর বৈঠক নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, তবে কি কোয়েলও বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন?
সূত্রের খবর, প্রথমে ই-মেলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠালেও রাজ্যসভার নিয়ম অনুযায়ী সাংসদকে সশরীরে হাজির হয়ে ইস্তফা জমা দিতে হয়। সেই নিয়ম মেনেই বৃহস্পতিবার সকালে উপরাষ্ট্রপতির দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন কোয়েল, যিনি রুক্মিণী নামেও পরিচিত।
ভূপেন্দ্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে জল্পনা
ইস্তফা জমা দেওয়ার পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক করেন কোয়েল। সম্প্রতি ভূপেন্দ্রের উদ্যোগেই তৃণমূলের একাংশের বিদ্রোহী সাংসদ নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। ফলে কোয়েলের এই সাক্ষাৎ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এর আগে চলতি মাসেই সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। পরে বিজেপিই তাঁদের রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী করে এবং তাঁরা পুনরায় রাজ্যসভায় ফিরছেন। সেই প্রেক্ষাপটে কোয়েলও কি একই পথে হাঁটবেন, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা।
সংসদে যোগ দেওয়ার আগেই ইস্তফা
গত ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত সংসদের কোনও অধিবেশনে অংশ নেননি কোয়েল। আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে চলা বাদল অধিবেশনই হতে পারত তাঁর প্রথম সংসদ অধিবেশন। কিন্তু তার আগেই সাংসদপদ ছেড়ে দিলেন তিনি।
তৃণমূলের মনোনয়ন, তারপর ইস্তফা
রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী-র সঙ্গে কোয়েল মল্লিককেও রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল তৃণমূল।
শপথ গ্রহণের পর কোয়েল বলেছিলেন, “দেশের সেবা, মানুষের সেবা করার সুযোগ পাওয়া আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়।” কয়েক মাসের মধ্যেই সেই পদ থেকে তাঁর ইস্তফা রাজনৈতিক মহলে একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এখন নজর, কোয়েল মল্লিকের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকে। তিনি কি বিজেপিতে যোগ দেবেন, নাকি অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে— সেই উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই।