২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের ঠিক আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার ঘোষণা করলেন প্রাক্তন আমলা, প্রাক্তন মন্ত্রী ও দলের বর্ষীয়ান নেতা মণীশ গুপ্ত। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূলে তাঁর আর কোনও ভূমিকা নেই বলেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেননি, তবে শীঘ্রই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন।
মণীশ গুপ্ত বলেন, “এই দলটায় আমার আর কিছু করার নেই। তাই অযথা সময় নষ্ট না করে ছেড়েই দিলাম। পরে অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেব।”
২১ জুলাইয়ের আগে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানে যুব কংগ্রেস কর্মীদের উপর পুলিশের গুলিচালনার সময় মণীশ গুপ্ত রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব ছিলেন। সেই ঘটনার পর দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। পরে ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে তৃণমূলে নিয়ে আসেন এবং বিধায়ক ও মন্ত্রী করেন।
এবার আবারও ২১ জুলাইয়ের ঠিক আগে তাঁর দলত্যাগের ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কাকলির অভিযোগের পরেই দলত্যাগ
বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলে ভাঙনের আবহে বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ১৯৯৩ সালের গুলিকাণ্ডে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন মণীশ গুপ্তকে দলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে চিঠি লিখে ওই ঘটনার নতুন করে তদন্তের আবেদনও জানিয়েছেন। সেই ঘটনার পরপরই মণীশ গুপ্তর দলত্যাগের ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।
শুভেন্দুর প্রশংসা
দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করার পাশাপাশি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মণীশ গুপ্ত।
তাঁর কথায়, “এখন যিনি মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দু অধিকারী, তিনি অত্যন্ত দক্ষ প্রশাসক। আশা করি, বাংলাকে তিনি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।”
তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি ভবিষ্যতে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন? যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি মণীশ গুপ্ত।
রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে
তৃণমূলে সাম্প্রতিক ভাঙনের আবহে একের পর এক নেতা-সাংসদের দলত্যাগ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মণীশ গুপ্তর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে।