প্রথম পাতা খবর হালিশহরে মৃত তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে শুভেন্দু, মমতার সফর ঘিরে বিক্ষোভের পর রাজনৈতিক চাপানউতোর

হালিশহরে মৃত তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে শুভেন্দু, মমতার সফর ঘিরে বিক্ষোভের পর রাজনৈতিক চাপানউতোর

9 views
A+A-
Reset

হালিশহরে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কাঁচড়াপাড়ায় পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন মৃত্যু হওয়া তৃণমূলকর্মী বিরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির একাধিক বিধায়ক ও মন্ত্রী।

রবিবারই ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কাঁচড়াপাড়ায় গিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভের অভিযোগ ওঠে। গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও ছেঁড়া চটি ছোড়ার পাশাপাশি ‘চোর-চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার পরের দিনই হালিশহরে পৌঁছলেন শুভেন্দু।

সোমবার সকাল থেকেই মৃত তৃণমূলকর্মীর বাড়ির সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়, নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিংহ, জগদ্দলের বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমার, বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর মুখ্যমন্ত্রী হালিশহর থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।

কী ঘটেছিল কাঁচড়াপাড়ায়?

তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে কাঁচরাপাড়া পুরসভার তৃণমূলের পদত্যাগী কাউন্সিলরের স্বামী বিরজু কেওটকে গ্রেফতার করেছিল হালিশহর থানার পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

এর পর শনিবার পুলিশি হেফাজতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। মৃতের স্ত্রী তথা কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের অভিযোগ, লকআপের ভিতরে পুলিশের মারধরের ফলেই তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।

মমতার সফর ঘিরে বিক্ষোভ

রবিবার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কাঁচড়াপাড়ায় যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। সেখানে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।

ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে রাজ্য সরকার এবং পুলিশকে নিশানা করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ বিজেপিকে ‘প্রোটেকশন’ দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, এই ঘটনার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

বিজেপির পাল্টা দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উস্কানি দিতেই কাঁচড়াপাড়ায় গিয়েছিলেন এবং সাধারণ মানুষ তাঁর সফরের প্রতিবাদ করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়।

শুভেন্দুও মমতার বিরুদ্ধে কটাক্ষ করেন। তাঁর মন্তব্য, ‘‘এত চুরি করেছেন, চোর তো শুনতেই হবে।’’

তবে বিজেপিরই মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই ঘটনায় কিছুটা ভিন্ন সুরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কারও বিরুদ্ধে যতই অভিযোগ থাকুক, তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো বা কাদা ছোড়া সমর্থনযোগ্য নয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে হালিশহর-কাঁচড়াপাড়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগের তদন্ত এবং দুই দলের রাজনৈতিক চাপানউতোর—দুই দিকেই এখন নজর।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.