দেশভাগের ভয়াবহ স্মৃতিকে স্মরণ করতে আগামী ১৪ অগস্ট রাজ্যের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেশ বিভাজন দিবস’ পালনের আহ্বান জানালেন রাজ্যপাল তথা পদাধিকার বলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য আরএন রবি। রবিবার লোক ভবনের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে।
লোক ভবনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশভাগের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অবিভক্ত বঙ্গ। লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন এবং বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এর পাশাপাশি বাংলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক পরিসরও গভীর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ভারতের ইতিহাসের এই ‘অন্ধকার অধ্যায়’ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে অবহিত করা প্রয়োজন। দেশভাগের শিকার মানুষদের সম্পর্কে জানার পাশাপাশি, সমাজে বিভাজন তৈরি করতে চায় এমন শক্তিগুলির বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজগুলিতেও ১৪ অগস্ট ‘দেশ বিভাজন দিবস’ পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্যপাল।
‘হর ঘর তিরঙ্গা’ নিয়েও প্রস্তুতি
১৯৪৭ সালের ১৪ অগস্ট পাকিস্তান পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। একই সময়ে অবিভক্ত বঙ্গ ও পঞ্জাবও বিভক্ত হয়। পরদিন, ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা লাভ করে ভারত।
স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। আগামী ১০ অগস্ট এই কর্মসূচি উপলক্ষে বিশেষ পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সেই পদযাত্রায় অংশ নেবেন।
সূত্রের খবর, ওই কর্মসূচিতে প্রায় ১০ হাজার পড়ুয়ার উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিকাশ ভবনের তত্ত্বাবধানে পরিকল্পনা হলেও কর্মসূচির বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কলেজের সঙ্গে বৈঠক করে পড়ুয়াদের অংশগ্রহণে উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০ অগস্ট সকাল ১০টার মধ্যে আকাশবাণীর কাছে জমায়েত হওয়ার কথা। দুপুর ১টার পর পদযাত্রা শুরু হয়ে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পর্যন্ত যাওয়ার কথা। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।