জোড়াফুল প্রতীক কি এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হতে চলেছে? তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে দলের দুই শিবিরের মধ্যে চলা বিবাদে এমনই জল্পনা তৈরি হয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে। একটি বিশেষ সূত্রের দাবি, স্বাধীনতা দিবসের আগেই চলতি সপ্তাহে এই বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে নির্বাচন কমিশন। তবে এখনও পর্যন্ত কমিশনের তরফে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
দলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের দাবি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবির এবং বিদ্রোহী শিবিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপড়েন চলছে। বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং সাংগঠনিক বৈধতার পক্ষে নথি জমা দিয়েছে।
সূত্রের দাবি, কমিশনের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবির তৃণমূল গঠনের প্রস্তুতিপর্ব থেকে শুরু করে দলের আন্দোলন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন নথি ও তথ্যপ্রমাণ জমা দিয়েছে। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরও নিজেদের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক-সহ বিভিন্ন সাংগঠনিক নথি কমিশনের কাছে পেশ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে মূল প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত কাদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে? দলের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার কোন শিবিরের হাতে থাকবে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা।
বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, বিধানসভায় তাঁদের সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক রয়েছেন। পাশাপাশি সংসদীয় স্তরেও তাঁদের পক্ষে সমর্থন রয়েছে বলে তারা কমিশনের কাছে দাবি করেছে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবির দলের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা, সাংগঠনিক কাঠামো এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নথি তুলে ধরে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে।
ইতিমধ্যেই ঋতব্রতদের আরও সময় না দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে এখন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে দুই শিবির। কমিশন যদি বিদ্রোহী শিবিরের দাবি মেনে নেয়, সেক্ষেত্রে দলের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে বড়সড় পরিবর্তন ঘটতে পারে। আর তা হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দল ও সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠবে।
তবে এই মুহূর্তে গোটা বিষয়টিই নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল। তাই জোড়াফুল প্রতীক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হচ্ছে—এমন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। চলতি সপ্তাহে কমিশনের পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।