প্রথম পাতা খবর রামপুরহাটের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু, উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ

রামপুরহাটের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু, উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ

8 views
A+A-
Reset

নিজস্ব সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বীরভূমের রামপুরহাটের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু। রবিবার সকালে বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। যদিও এটি আত্মহত্যা কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

রামপুরহাট পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় বাড়ি আশিসের। বাড়ির লাগোয়া একটি দলীয় কার্যালয়েই রবিবার সকালে তাঁর দেহ দেখতে পাওয়া যায়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রামপুরহাট থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট মিলেছে। সেখানে কী লেখা রয়েছে এবং তার সঙ্গে আশিসের মৃত্যুর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর মৃত্যুর আগে কোনও মানসিক চাপ বা অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, তদন্তকারীরা তা জানার চেষ্টা করছেন।

দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন আশিস। ২০০১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ওই কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভাতেও একাধিক বার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। রাজ্যের প্রাক্তন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রী ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বীরভূমের রাজনীতিতে প্রবীণ তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন আশিস। অনুব্রত মণ্ডল বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি থাকাকালীনও দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন তিনি। ২০২২ সালের বগটুই-কাণ্ডের সময়ও তাঁর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়েছিল।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রামপুরহাট থেকে ফের তৃণমূলের প্রার্থী হন আশিস। তবে বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে তিনি পরাজিত হন। ব্যবধান ছিল ২৪ হাজারেরও বেশি ভোট। নির্বাচনের পর তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে তুলনামূলক ভাবে কম দেখা যাচ্ছিল।

এরই মধ্যে রবিবার তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আত্মহত্যা হয়ে থাকলে তার কারণ কী, সুইসাইড নোটে কী লেখা রয়েছে এবং মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.