প্রথম পাতা খবর একদিনেই ফের যথাস্থানে যাদবপুরের এমব্লেম, অশান্তির তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

একদিনেই ফের যথাস্থানে যাদবপুরের এমব্লেম, অশান্তির তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

9 views
A+A-
Reset

একদিনের মধ্যেই ফের যথাস্থানে বসানো হল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী এমব্লেম। বৃহস্পতিবার ছাত্র সংঘাতের মধ্যে নন্দলাল বসুর তৈরি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকটি ভেঙে পড়েছিল। শুক্রবার সেটি মেরামত করে ফের ৪ নম্বর গেটের সামনে বসানো হয়। উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য।

এমব্লেম পুনঃস্থাপনের পর উপাচার্য বলেন, ‘‘এটি আমাদের কাছে গর্বের জিনিস। সেটা আবার যথাস্থানে পুনঃস্থাপন করতে পেরেছি। যেটা ঘটেছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি।’’

বুধবার রাত থেকেই উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। অরবিন্দ ভবনে বহিরাগতদের হামলা এবং আগুন লাগানোর অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে ঢুকে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তার মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক ভেঙে পড়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরপর দু’দিনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে।

এমব্লেম ভাঙার ঘটনায় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, এবিভিপির সমর্থকরাই নন্দলাল বসুর তৈরি প্রতীকটি ভেঙেছেন। পালটা সেই অভিযোগ অস্বীকার করে এবিভিপির দাবি, এমব্লেম ভাঙার পিছনে বামপন্থীরাই রয়েছে। ফলে ঘটনার দায় নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনগুলির পরস্পরকে দোষারোপ।

যাদবপুরের সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে সরব হয়েছে আরএসএস-ও। পশ্চিমবঙ্গের আরএসএসের সহক্ষেত্র প্রচার প্রমুখ জিষ্ণু বসু অশান্তির জন্য বামপন্থীদের দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য একটি নির্দিষ্ট শক্তি ধারাবাহিক ভাবে কাজ করছে। ঘটনায় যুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে অশান্তির ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হামলার অভিযোগ-সহ সাম্প্রতিক সমস্ত ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

শুক্রবার শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, উপাচার্যের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সূত্রের খবর, কমিটিতে বর্তমানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত কোনও প্রতিনিধিকে রাখা হচ্ছে না।

জানা যাচ্ছে, তদন্ত কমিটিতে থাকতে পারেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন উপাচার্য, কলকাতার অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য এবং অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি বিভাগের অধিকর্তা। এই কমিটিই সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেবে।

পাশাপাশি ক্যাম্পাসে থাকা সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অশান্তির নেপথ্যে কারা ছিলেন, কীভাবে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকলেন এবং ভাঙচুর ও এমব্লেম ভেঙে পড়ার ঘটনায় কারা জড়িত—সিসিটিভি ফুটেজের সাহায্যে সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে পুলিশ।

উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। শিক্ষকতা করছি। এটা আমাদের গর্বের প্রতীক। যা ঘটেছে তা নিন্দনীয়। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছি। যা যা চাইছে তা সবটাই দেওয়া হবে। পুলিশ তদন্ত করেছে।’’

একদিকে ঐতিহ্যবাহী এমব্লেম ফের যথাস্থানে বসেছে, অন্যদিকে সাম্প্রতিক অশান্তির তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। ফলে যাদবপুরের ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পাশাপাশি অশান্তির প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করাই এখন কর্তৃপক্ষের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.