পোস্তায় গদিতে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠল চার দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে কটন স্ট্রিটের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। মুখ কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় গদিতে ঢুকে মালিক ও কর্মচারীদের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ। সিন্দুক থেকে টাকা বের করে ব্যাগে ভরে নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিনই ওই গদিতে এক কোটিরও বেশি টাকা এসেছিল। সেই টাকা সিন্দুকে রাখা ছিল। অভিযোগ, রাতে আচমকাই চার যুবক গদিতে ঢোকে। প্রত্যেকের মুখ কাপড়ে ঢাকা ছিল। এরপর গদির মালিক এবং কর্মচারীদের আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে চুপ করে থাকতে বলা হয়। দু’জন সিন্দুক খুলে সেখান থেকে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বের করে নেয়। টাকা ব্যাগে ভরে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
দুষ্কৃতীরা যাওয়ার সময় গুলি চালানোর ভয় দেখিয়ে কাউকে চিৎকার করতে নিষেধ করে বলে অভিযোগ। তবে তারা বেরিয়ে যাওয়ার পরই কর্মচারীরা চিৎকার করে পিছু নেন। তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারাও রাস্তায় বেরিয়ে আসেন এবং দুষ্কৃতীদের ধরতে ধাওয়া করেন। স্থানীয়দের দাবি, এক দুষ্কৃতীকে ধরেও ফেলেছিলেন তাঁরা। কিন্তু দলের অন্য সদস্যরা এসে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। লালবাজারের গোয়েন্দারাও ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। গদির মালিক ও কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গদি এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
গদির মালিকের দাবি, দুপুরে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি গদির আশপাশে রেইকি করতে এসেছিল। রাতে তারাই ফের ডাকাতি করতে আসে বলে তাঁর সন্দেহ। ফলে এই ঘটনায় গদির পরিচিত কোনও ব্যক্তির যোগ রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, ডাকাতির আগে কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ টাকা আসার খবর দুষ্কৃতীদের কাছে পৌঁছল এবং ধৃত ব্যক্তিকে কারা ছিনিয়ে নিয়ে গেল—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা।