কলকাতার নিউমার্কেটের হোটেল অগ্নিকাণ্ডে মৃত ৯ জনের মধ্যে আট জনই বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ‘আজকের পত্রিকার’ পত্রিকার সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা সিমমিন, তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশিস দত্ত এবং শ্বশুর আক্রম আলি। মৃতদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা আহমেদ বাবুও রয়েছেন। বাকি মৃতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
কলকাতায় বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনার মহম্মদ খালেদ জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে অসুস্থ হয়ে পড়া ছয় জন বাংলাদেশি আপাতত বিপন্মুক্ত। তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন দেবাশিস দত্তের স্ত্রী। তাঁর চিকিৎসার জন্য স্ত্রী, ছেলে এবং শ্বশুরকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে এসেছিলেন দেবাশিস। ব্যাঙ্গালোরে চিকিৎসা করানোর পর তাঁরা কলকাতায় আসেন। নিউমার্কেটের ‘শিখা ইন’ হোটেলেই উঠেছিলেন তাঁরা। কিন্তু মধ্যরাতে আচমকা আগুন লেগে বিপর্যয় নেমে আসে।
আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে হোটেলের ঘরগুলি ধোঁয়ায় ভরে যায়। বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেও শেষরক্ষা হয়নি দেবাশিস ও তাঁর পরিবারের। ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর ভোররাতে হোটেল থেকে একে একে প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশের নাগরিক। আহত ও অসুস্থদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত আগুন লাগার সঠিক কারণ স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক ভাবে এসি বিস্ফোরণের জেরে আগুন লাগতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ফরেনসিক ও অন্যান্য তদন্তের পরই আগুনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল অবিলম্বে হোটেলটির ফায়ার অডিট সংক্রান্ত রিপোর্ট তলব করেছেন। অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।