কলকাতা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে ফের সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কেষ্টপুরে গণেশপুজোর উদ্বোধনে গিয়ে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ তৈরি না হলে এ রাজ্যের বাঙালিদের অবস্থাও বাংলাদেশে বন্দি চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মতো হতে পারত।
শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে আসে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মায়ের শেষকৃত্যের প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, সেই দৃশ্য গোটা বিশ্বের ‘সনাতনী’ সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং স্বামী প্রণবানন্দের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।
শুভেন্দুর অভিযোগ, বাংলার ইতিহাসে তাঁদের ভূমিকা পূর্বতন বাম সরকার এবং তৃণমূল সরকার যথাযথভাবে তুলে ধরেনি। তাঁর বক্তব্যে দেশভাগ, পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব এবং বাঙালি হিন্দুদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গও উঠে আসে। গণেশপুজোর মঞ্চ থেকে তিনি ‘সনাতনী বাংলা’ গড়ার কথাও বলেন।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে অবশ্য রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বামেদের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এ দেশে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও কেন একই ভাবে সরব হওয়া হবে না। সেই প্রসঙ্গে উমর খলিদ ও স্ট্যান স্বামীর বন্দিত্বের মতো ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।
এদিনের বক্তব্যে শুভেন্দু বাঙালি-অবাঙালি বিভাজন নিয়েও সরব হন। তাঁর দাবি, গণেশপুজো বা ছটপুজো কোনও নির্দিষ্ট রাজ্য বা সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এগুলি বৃহত্তর সনাতনী সংস্কৃতির অংশ। ‘বাঙালি’ ও ‘অবাঙালি’র মধ্যে বিভেদের প্রাচীর ভেঙে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে ঘিরে বাংলাদেশের পরিস্থিতি এবং পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস ও পরিচয় নিয়ে শুভেন্দুর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ফের বিতর্ক তৈরি হয়েছে।