কলকাতা: পুজোর আগে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এবার দুই আসনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করল বামেরা। নন্দীগ্রামে সিপিআইয়ের প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি এবং রেজিনগরে সিপিএমের প্রার্থী সইদ আসাদ আলি। দুই কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ এবং ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণা হবে।
নন্দীগ্রামে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বামেদের প্রার্থী ছিলেন শান্তিগোপাল। সিপিআইয়ের হয়ে তিনি পেয়েছিলেন ২,৯৯৭ ভোট। ওই নির্বাচনে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী ১,২৭,৩০১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। দুই কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন হচ্ছে।
অন্যদিকে, রেজিনগরে এ বার প্রথম বার সরাসরি প্রার্থী দিয়েছে সিপিএম। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামেরা ওই আসনে প্রার্থী না দিয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল সোসালিস্ট পার্টির প্রার্থী তুষারকান্তি চট্টোপাধ্যায়কে সমর্থন করেছিল। এ বার অবশ্য নিজেদের প্রার্থী নিয়ে ময়দানে নামল সিপিএম।
দুই আসনেই ইতিমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। নন্দীগ্রামে মিলন প্রধান এবং রেজিনগরে মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি-কে প্রার্থী করেছে দল।
এখন নজর বিজেপি এবং তৃণমূলের দিকে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই বিজেপির প্রার্থী ঘোষণা এখনও বাকি। অন্যদিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের আবহে কোন শিবির কাকে প্রার্থী করে, তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। নন্দীগ্রামে ‘ভূমিপুত্র’ কোনও মুখকে সামনে আনা হবে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী, উপনির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ সেপ্টেম্বর।
ফলে পুজোর মুখে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন ঘিরে ক্রমেই জমে উঠছে রাজনৈতিক লড়াই। বাম ও কংগ্রেস প্রার্থী ঘোষণা করে ময়দানে নেমে পড়লেও, বিজেপি ও তৃণমূলের প্রার্থী তালিকার দিকেই এখন মূল নজর।