৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রস্তুতির মধ্যেই নন্দন চত্বরে নতুন করে বিতর্ক। নন্দনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলক সাদা কাগজ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, রবিবার প্রকাশিত হয়েছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের নতুন লোগো। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা উৎসবের।
নন্দন চত্বরে পাশাপাশি রয়েছে একাধিক স্মারক ফলক। তার মধ্যে একটি ফলকে রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নাম। ১৯৮০ সালের ১১ এপ্রিল তাঁর উদ্বোধন করা ‘দি আর্ট ফিল্ম থিয়েটার’-এর ফলকটি এখনও রয়েছে। পাশেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ চলচ্চিত্র কেন্দ্রের ফলক। ১৯৮৫ সালের ওই ফলকে উদ্বোধক হিসেবে সত্যজিৎ রায়ের নাম রয়েছে। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এবং তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রী প্রভাস ফদিকার।
অভিযোগ, এই ফলকগুলির পাশে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলকটির উপরেই সাদা কাগজ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এ প্রসঙ্গে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, সেখানে নতুন ফলক বসানো হবে। তবে কার নাম সেই ফলকে থাকবে, তা এখনই প্রকাশ করতে চাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, বাংলার কোনও বিশিষ্ট ব্যক্তির নামই সেখানে স্থান পাবে।
নতুন লোগো প্রকাশ, ১৬ ডিসেম্বর থেকে চলচ্চিত্র উৎসব
রবিবার নন্দনে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের নতুন লোগো প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, রুদ্রনীল ঘোষ ও হিরণ-সহ একাধিক পরিচিত মুখ।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে ৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। এবারের ফোকাস কান্ট্রি আয়ারল্যান্ড। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে। মিঠুন চক্রবর্তীর ঘোষণা অনুযায়ী, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রজনীকান্ত, প্রভাস, অক্ষয় কুমার, সঞ্জয় দত্ত, অনুপম খের, কঙ্গনা রানাউত ও পরেশ রাওয়ালের মতো তারকাদের উপস্থিত থাকার কথা।
স্টুডিওপাড়ার ভোট নিয়েও পাপিয়া-মিঠুনের মতভেদ
অন্যদিকে, স্টুডিওপাড়ার নির্বাচন নিয়ে ফের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, বহু মানুষ এখনও নির্বাচনের প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছেন। তাঁদের কাউকে নমিনেশন বা ভোট দেওয়ার কার্ড দেওয়া হয়নি। মিঠুন চক্রবর্তী কিছু মানুষের পরিচয় না জানায় ভবিষ্যতে তাঁদের উপর পুরনো অত্যাচার শুরু হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। পাপিয়ার বক্তব্য, বাদ পড়া ব্যক্তিদের কার্ড দেওয়ার বিষয়ে মিঠুন আশ্বাস দিয়েছেন।
যদিও পাপিয়ার অভিযোগ কার্যত নাকচ করেছেন মিঠুন। তাঁর দাবি, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবেই হচ্ছে। যাঁদের নথি সঠিক, তাঁদের কাজে নেওয়া হবে। ভুয়ো কার্ড বা মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে না। বাদ পড়া ব্যক্তিদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
মিঠুনের দাবি, আগামী ছ’মাসের মধ্যে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের চেহারা বদলে যাবে। যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে কাজের সুযোগ পান, সেটাই তাঁর লক্ষ্য। নন্দনের ফলক বিতর্ক, চলচ্চিত্র উৎসবের প্রস্তুতি এবং টালিগঞ্জের নির্বাচন—সব মিলিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে এখন একাধিক বিষয় ঘিরে আলোচনা চলছে।