ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে নতুন করে ঘূর্ণিঝড় তৈরির আশঙ্কা। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তার নাম হবে ‘মুরাসু’। মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে সেটি। স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা।
মৌসম ভবন জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি দ্রুত পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। শনিবার রাতে ছ’ঘণ্টায় প্রায় ২২ কিলোমিটার অগ্রসর হয়েছে সেটি। শনিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ নিম্নচাপটির অবস্থান ছিল চেন্নাই থেকে ৮৩০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে, বিশাখাপত্তনম থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্বে, মছিলিপত্তনম থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের ওঙ্গোল থেকে ৯৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে।
কবে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে নিম্নচাপ?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আরও পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে রবিবার দুপুরের মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে সেটি। এরপর আরও শক্তি সঞ্চয় করে রবিবার মধ্যরাতের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তার নাম হবে ‘মুরাসু’।
সোমবারের মধ্যে শক্তি বাড়িয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে সেটি। এরপর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোবে। আবহবিদদের পূর্বাভাস, মঙ্গলবার ভোরের দিকে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলের কাছে পৌঁছতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর সকালে নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপকূলে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আশঙ্কা
স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। ফলে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলায় কেমন থাকবে আবহাওয়া?
নতুন ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব আপাতত পশ্চিমবঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মঙ্গলবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।
উত্তরবঙ্গের পাহাড়ঘেঁষা জেলা দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে বুধবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তার পর থেকে রাজ্যের সর্বত্র আবহাওয়া শুকনো থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আপাতত কোনও জেলার জন্য আলাদা করে আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করা হয়নি।
বাড়তে পারে তাপমাত্রা
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। রবিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৩ ডিগ্রি বেশি। শনিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৪ ডিগ্রি বেশি।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছে মৌসম ভবন এবং আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আগামী কয়েক দিনে নিম্নচাপের অবস্থান ও শক্তির উপর নির্ভর করবে উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগের মাত্রা।