পুজোর পর এবার দীপাবলির আগেও চা বাগান শ্রমিকদের জন্য উপহারের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। মঙ্গলবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক থেকে চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য একাধিক সুবিধার কথা জানালেন তিনি। ৩৫ কেজির পরিবর্তে ৫০ কেজি চাল দেওয়ার পরিকল্পনার পাশাপাশি শ্রমিকদের ৫০০০ টাকা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রেশনে চা বাগানের শ্রমিকদের ৫০ কেজি চাল দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে সরকার ভাবনাচিন্তা করছে। বর্তমানে তাঁরা ৩৫ কেজি চাল পান। পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে রেশনের সুবিধাভোগীরা অতিরিক্ত চাল পাবেন। তবে এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে বৈঠকে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা বাগানগুলি খোলার বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘‘আপনাকেই বন্ধ সমস্ত চা বাগান খুলতে হবে, সব মুখ্যমন্ত্রী করলে হবে না।” অর্থাৎ বন্ধ চা বাগানগুলি চালু করার দায়িত্ব শ্রম দফতরকেও সক্রিয়ভাবে নিতে হবে, সেই বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
চা বাগানের শ্রমিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘জব কার্ড প্রস্তুত রাখুন, দ্রুত কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনার আওতায় সবাইকে আনা হবে।” এর মাধ্যমে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও সরকারি প্রকল্পের সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
মঙ্গলবার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী দুপুরে শিলিগুড়িতে পৌঁছে উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বিভিন্ন দফতরের কাজকর্ম এবং এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
এদিন নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান কামতাপুরী ভাষা সংগঠনের সদস্যরা। কামতাপুরী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি দীর্ঘদিনের। তবে তাঁদের দাবির বিষয়ে বৈঠকে বা সরকারি তরফে কোনও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।