আজ “সেনাদিবস”, বিনম্র শ্রদ্ধায় আসুন কৃতজ্ঞতা জানাই

পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায়

প্রায় ২০০ বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে, শত শত শহীদ বীর এবং বীরাঙ্গনাদের জীবন উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগস্ট নতুন ভোরে আমাদের দেশ ভারতবর্ষ-এর আকাশে স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছিল।

সেই দেশের মানচিত্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় স্থলে, জলে,অন্তরীক্ষে-র সীমান্ত সীমানা রক্ষার জন্য দেশের স্থল সেনা বাহিনী (Military force),নৌ-সেনা বাহিনী( Naval force), এবং অন্তরীক্ষ সেনা বাহিনী (Air force) গঠিত হয়েছিল। ভারতের এই তিন সেনা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসাবে প্রথম নির্বাচিত হন জেনারেল কুন্দনডেরা এম. কারিয়াপ্পা,১৯৪৯ সালের ১৫ ই জানুয়ারি অর্থাৎ আজকের দিনে। তখন থেকেই এই ১৫ ই জানুয়ারী দিনটি “সেনা দিবস” হিসাবে আমাদের দেশে পালিত হয়ে আসছে।

আমাদের সারাদেশে যখন আমরা রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোই,তখন এইসব সেনানীরা আমাদের দেশের সীমান্তের সীমারেখায় দুর্গম এলাকায় অতন্দ্র প্রহরায় জেগে থাকেন।শীত গ্রীষ্ম বর্ষায় এইসব সেনানী ভাই বোনেরা তাদের ঘর,বাড়ি,গ্রাম শহর মফস্বল থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে সীমান্ত প্রহরায় নিয়োজিত থাকেন।আমরা তাদের জীবনের কতটুকুই বা জানতে পারি।তাদের মা,বাবা,ভাই বোন,স্ত্রী,সন্তানদের এককথায় পরিবারের সব মায়া ত্যাগ করে তারা দিনের পর দিন,মাসের পর মাস,বছরের পর বছর দেশের মানচিত্রের সীমান্ত রক্ষায় নিজেদের জীবন বাজী রেখে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন। যখন বাইরের কোন শত্রুর আক্রমন হয় আমাদের দেশের প্রতি,তখন এইসব সেনাবাহিনীর বীর সেনানীরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে পিছপা হন না। শহীদ হয়ে যান তারা। মায়ের কোল খালি হয়ে যায়,স্ত্রীরা সঙ্গীহারা হন,শিশুরা-সন্তানরা পিতৃহারা হয়।আমরা তার কতটুকুই বা খবর রাখি। সেই ঋণ কি কখনো শোধ করা যায়?

সেইভাবে মূল্যায়ন করলে বলা যায়,আমরা দেশের সাধারণ নাগরিকরা এইসব বীর সেনানীদের কাছে আজন্ম ঋণী হয়ে থাকি।

প্রাসঙ্গিকভাবেই বলা যায় আমাদের সমগ্র দেশবাসীর পরম কর্তব্য এইসব সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।বারবার মনে মনে গেয়ে ওঠা সেই বহুশ্রুত গানের কলিঃ..” এয় মেরে ওয়াতন্ কি লোগো, জরা আঁখো মে ভর্ লো পানি, যো শহীদ হুয়ে হ্যায় উন্ কি জরা ইয়াদ করো কুরবানি…”।

আজ ১৫ ই জানুয়ারী, ১৯৪৯ সাল থেকে ২০২৩…এই বিরাট সময়কাল পার করে ৭৪ তম সেনাদিবস আমাদের দেশের তিন সেনাবাহিনীতে শ্রদ্ধার সাথে পালিত হচ্ছে। যথাযথ মর্যাদার সাথেই সম্মানিত করা হয় এই দিনটিকে।স্মরণে রাখতে হবে যে, দেশের ভিতরে বাইরে যখনই কোন বিপদের মুখোমুখি হয় আমাদের দেশ,তখন অমোঘ রক্ষায় এগিয়ে আসে এইসব সেনা বাহিনীর সেনানীরা।

আসুন আজ এই পবিত্রদিনে সেনাদিবসের ঐতিহ্য এবং পরম্পরাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাই দেশের সেইসব বীর এবং বীরাঙ্গনাদের যারা রয়েছেন বলে আমরা সাধারণ জনগণ নিশ্চিন্তে স্বস্তিতে নিজেদের পরিবারের সাথে জীবন কাটাতে পারছি। যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব,দেশের মানুষকে রক্ষা করার জন্য,সেইসব অমর জওয়ান শহীদদের আত্মবলিদান স্মরণ করি।প্রনাম জানাই,সেলাম জানাই।

Great salute with heartiest regards and gratitude to all Real Heroes of India’s Military force, Naval force and Airforce…Jai Hind…বন্দে মাতরম্…

Related posts

২৭ শে এপ্রিল মানে জাগা, জেগে থাকা, জাগানো…

‘কলকাতার যীশু’, ‘উলঙ্গ রাজা’, ‘অমলকান্তি’-র প্রণেতা, শতবর্ষী কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

চৈত্র বৈশাখ মধুমাধবের মায়ায় মায়ায়