তালসারিতে শুটিং চলাকালীন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যুর তিন দিন পর অবশেষে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করল সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা। ঘটনার পর থেকে সংস্থার নীরবতা নিয়ে টলিপাড়ায় তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে সংস্থার অন্যতম মুখ লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-কে ঘিরে প্রশ্ন উঠছিল বারবার।
বুধবার প্রকাশিত বিবৃতিতে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রযোজনা সংস্থা শুধুমাত্র লীনার নয়, এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ও। লীনা ২০১০ সাল থেকে সংস্থার সঙ্গে ‘ক্রিয়েটিভ হেড’ হিসেবে যুক্ত এবং মূলত সৃজনশীল দিকটিই দেখেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তদন্তের স্বার্থে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন পদে থাকতে চান না বলে জানিয়েছেন। নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত বলে দাবি সংস্থার।
অন্যদিকে, ঘটনার দিন শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় শহরে ছিলেন না বলেও জানানো হয়েছে। খবর পেয়ে তিনি মুম্বই থেকে ফিরে এসে রাহুলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন। যদিও সংস্থার দাবি, পরিবারের পরিস্থিতির কারণে সেই সময় কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজনের দাবি, তাঁকে সেখানে দেখা যায়নি।
এই ঘটনার পর থেকেই শুটিংস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। ওড়িশা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, ওই শুটিংয়ের কোনও অনুমতি ছিল না। যদিও প্রযোজনা সংস্থা দাবি করেছে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।
রাহুলের মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনার মাঝেই সংস্থা জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে তাঁকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রথমে কাছাকাছি একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে চিকিৎসক না থাকায় তাঁকে দিঘা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বিবৃতির শেষে সংস্থা জানায়, রাহুল তাঁদের কাছে শুধু সহকর্মী নন, বন্ধু ছিলেন। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।