কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব এবার পৌঁছে গেল দলীয় তহবিলের প্রশ্নে। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা এবং লেনদেন বন্ধ রাখার আবেদন জানিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। নিজেকে দলের ‘কোষাধ্যক্ষ’ দাবি করে তিনি এই পদক্ষেপ করেছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহে কলকাতার একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখা ম্যানেজারের কাছে চিঠি জমা দেন অরূপ। তৃণমূলের নামে থাকা সমস্ত অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেন অবিলম্বে বন্ধ রাখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ওই চিঠিটি ১২ জুন লেখা হলেও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করে ১৬ জুন।
চিঠিতে অরূপ উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। একাংশ নিজেদের তৃণমূলের বৈধ প্রতিনিধি বলে দাবি করছে। এর ফলে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
প্রাক্তন মন্ত্রীর দাবি, এই পরিস্থিতিতে দলীয় তহবিল সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। কোনও অননুমোদিত ব্যক্তি যাতে অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তুলতে বা লেনদেন করতে না পারেন, সেই কারণেই অভ্যন্তরীণ বিরোধ মিটে না যাওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ রাখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে এই ঘটনা। কারণ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া সর্বশেষ অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬৭৫ কোটি টাকা রয়েছে।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলীয় সংগঠনে ব্যাপক রদবদল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন নেতৃত্ব গঠন করা হয়। গত ৫ জুন ঘোষিত সাংগঠনিক রদবদলে রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীকে দলের কোষাধ্যক্ষ করা হয়।
অরূপের চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর শুভাশিস চক্রবর্তী বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। তবে আমি রাজ্য সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ। অরূপ ছিলেন সর্বভারতীয় তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ।”
দলের অ্যাকাউন্ট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শুভাশিসের দাবি, রাজ্য ও সর্বভারতীয় সংগঠনের জন্য আলাদা অ্যাকাউন্ট নেই, অ্যাকাউন্ট একটিই। ফলে অরূপের এই পদক্ষেপকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে ‘মেসি-কাণ্ডে’ বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেন অরূপ বিশ্বাস। তার মধ্যেই দলীয় তহবিল সংক্রান্ত এই চিঠি প্রকাশ্যে আসায় নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।