প্রথম পাতা খবর চোরবাগান দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯, কলকাতার বড় পুজোমণ্ডপ পরিদর্শনে বিশেষ দল

চোরবাগান দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯, কলকাতার বড় পুজোমণ্ডপ পরিদর্শনে বিশেষ দল

16 views
A+A-
Reset

কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯। সপ্তমীর সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টির মধ্যে দর্শনার্থীদের ভিড় ও হুড়োহুড়ির জেরে এই বিপর্যয় ঘটে। ঘটনার পর কলকাতার অন্যান্য বড় ও জনপ্রিয় পুজোমণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে বিশেষ দল গঠন করেছে রাজ্য প্রশাসন। শনিবার রাতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিদর্শনকারী দলের রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত এই দলের নেতৃত্বে থাকবেন রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিব রাজেশ সিংহ, দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা এবং স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের এডিজি জাভেদ শামিম। কলকাতা পুলিশ দলটিকে সহযোগিতা করবে। পরিদর্শন শেষে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষের কাছে।

প্রয়োজনে শুধু পুরোহিত দিয়ে পুজো, বাইরে এলইডি স্ক্রিন

চোরবাগান দুর্ঘটনার পর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পৌঁছে আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে রাতে দুর্ঘটনাস্থলেও যান তিনি। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিদর্শনকারী দল যে সুপারিশ করবে, পুজো কমিটিগুলিকে তা মেনে চলতে হবে।

তাঁর বক্তব্য, কোনও মণ্ডপের কাঠামো দুর্বল হলে বা ভিড়ের চাপে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকলে সেখানে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রেখে শুধু পুরোহিতের মাধ্যমে পুজো ও সংকল্পের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে মণ্ডপের বাইরে এলইডি স্ক্রিন লাগিয়ে ভিতরের পুজো ও অনুষ্ঠান দেখানোর ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, সব পুজো বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে কলকাতার যেসব পুজোয় অপ্রত্যাশিত ভিড় হচ্ছে, সেখানে নিরাপত্তার ঘাটতি থাকলে তা চিহ্নিত করে দ্রুত সংশোধন করতে হবে। পুজোর বাকি দিনগুলিতে যাতে নতুন করে এমন বিপর্যয় না ঘটে, সে জন্য পুলিশ ও প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার তদন্তে সিট গঠনের উদ্যোগ

চোরবাগান দুর্ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসটিএফ, সিআইডি-সহ বিভিন্ন সংস্থার আধিকারিকদের নিয়ে এই দল গঠন করা হবে। তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে একজন বিচারপতিকে রাখার জন্য কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ঘুগেকে চিঠি লিখবেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হবে। ঘটনার পর পুজো কমিটির ১২ জন সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ বলে জানা গিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় কারা দায়িত্বে ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। রাজ্য সরকারের তরফে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। নম্বর ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮।

নিহতদের পরিবার পিছু ২৫ লক্ষ টাকা ও চাকরি

চোরবাগান দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। প্রতিটি মৃতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, পরিবারের একজন সদস্যকে গ্রুপ-ডি পদে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহনের পাশাপাশি তাঁদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতর থেকেও আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। নিহতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবার পিছু ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

মৃতদের তালিকায় একাধিক কিশোর-কিশোরী

দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীপর্ণা পোদ্দার (২৬), মিঠু মণ্ডল (৪৫), আকৃতি কুমারী (১৭), বর্ণালী হালদার (১৭), শুভম শঙ্কর (৩৩), আরতি সরকার বিশ্বাস (৪৫), টগর বেজ (৩৭), তানিয়া বিশ্বাস (১৮), কল্পনা জানা (৪৬), বিকাশ ভট্টাচার্য (৬৬), স্নেহা ভাণ্ডারী (২০), সন্দীপ বেজ (১৪), পিয়ালী প্রামাণিক (২৫), প্রিয়া সমাদ্দার (১৮) এবং প্রাঞ্জল সরকার (১৩)।

এ ছাড়া দিলীপ ঘোষ (৫৯) ও দীপালি ঘোষের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী। বিহারের একই পরিবারের অভিষেক শ্রীবাস্তব (৩৮) ও আয়াংশ কুমার শ্রীবাস্তব (৭)-এরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সপ্তমীর সন্ধ্যার এই দুর্ঘটনার পর কলকাতার বড় পুজোমণ্ডপগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, মণ্ডপের কাঠামোর নিরাপত্তা এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের পথ খতিয়ে দেখাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.