নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া: প্রায় ৪৮ ঘণ্টার উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং জোর তল্লাশির পর অবশেষে বাড়ি ফিরেছেন রাজ্য স্তরের রাইফেল শুটার দময়ন্তী সেন। তাঁর নিরাপদে ফিরে আসায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে পরিবার। তবে এই দু’দিন তিনি কোথায় ছিলেন এবং কেন হঠাৎ নিখোঁজ হয়েছিলেন, তা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। প্রাথমিক তদন্তে হাওড়া সিটি পুলিশের হাতে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোরে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাট এলাকা থেকে দময়ন্তীকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, বাড়ি ছাড়ার পর গত দু’দিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। তাঁর দাবি, পড়াশোনা এবং শুটিং—দুই ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে প্রবল চাপের মধ্যে ছিলেন। সেই মানসিক উদ্বেগ থেকেই আচমকা বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দময়ন্তীর এই দাবি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার সকালে। প্রতিদিনের মতো সকাল ৯টা নাগাদ মধ্য হাওড়ার উমাচরণ ভট্টাচার্য লেনের বাড়ি থেকে দুধ কিনতে বেরিয়েছিলেন বছর পনেরোর দময়ন্তী। তাঁর সঙ্গে ছিল না মোবাইল ফোন বা টাকা। নাইটড্রেস পরেই তিনি দোকানে গিয়েছিলেন। সকাল ১০টা নাগাদ বাবার সঙ্গে শুটিং অনুশীলনে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। এরপর পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না মেলায় হাওড়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন তাঁর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন।
পরিবারের দাবি, বাড়িতে কোনও অশান্তি বা বিবাদ ছিল না। তাই হঠাৎ কেন দময়ন্তী বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেন, তা তাঁরা বুঝতে পারছিলেন না।
তদন্তে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে হাওড়া স্টেশন এবং পরে শ্রীরামপুর স্টেশনে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। শুক্রবার সকালে শ্রীরামপুরের মাহেশের রথের মেলাতেও তাঁকে দেখতে পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। সেই সূত্র ধরে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায় পুলিশ।
এদিকে, দময়ন্তীর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন অভিযোগ করেন, রেল স্টেশনগুলির সিসিটিভি ফুটেজ সময়মতো না পাওয়ায় তদন্তে বিলম্ব হয়েছে। যদিও রেল পুলিশের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
দময়ন্তীর সন্ধানে হাওড়া সিটি পুলিশের পক্ষ থেকে চারটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছিল। শুধু হাওড়া নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও সম্ভাব্য সূত্র ধরে তল্লাশি চালানো হয়। পরিবারের কাছ থেকে দময়ন্তীর পরিচিত স্থানগুলির তথ্য সংগ্রহ করে সেখানে খোঁজ চালান গোয়েন্দারা।
শেষ পর্যন্ত শনিবার ভোরে দময়ন্তী নিরাপদে ফিরে আসেন। আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। তবে কেন তিনি বাড়ি ছেড়েছিলেন এবং এই সময়ে কোথায় কোথায় ছিলেন, তা নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে হাওড়া সিটি পুলিশ। পাশাপাশি, মানসিক চাপের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর।