দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাইপ্রোফাইল ফলতা পুনর্নির্বাচনে শুরু থেকেই একতরফা লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। গণনার তৃতীয় রাউন্ড শেষে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা ১৪,২৩৭ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন বলে নির্বাচন সূত্রে জানা গেছে। দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিপিএম, তৃতীয় স্থানে রয়েছে কংগ্রেস, আর তৃণমূল কংগ্রেস নেমে গিয়েছে চতুর্থ স্থানে।
প্রথম রাউন্ড থেকেই বিজেপির পক্ষে প্রবল সমর্থনের ইঙ্গিত মেলে। প্রথম রাউন্ডে দেবাংশু পাণ্ডা ৯,৫৩৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে যান। সিপিআইএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মি ৪৪৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন, কংগ্রেস প্রার্থী পান ২২৫ ভোট।
দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে বিজেপির ব্যবধান আরও বাড়ে। তখন বিজেপি এগিয়ে ছিল ১২,৫৬৩ ভোটে। সিপিএম ৩,৩২০ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। কংগ্রেস পায় ৭০৯ ভোট, আর তৃণমূলের ঝুলিতে যায় মাত্র ৪৮১ ভোট।
তৃতীয় রাউন্ড শেষে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিজেপির সমর্থকেরা ইতিমধ্যেই উদযাপনে মেতে উঠেছেন। গেরুয়া আবির মেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় বহু কর্মী-সমর্থককে।
এই পুনর্নির্বাচনকে ঘিরে নাটকীয়তা শুরু হয়েছিল ভোটের প্রচারের শেষ দিন থেকেই। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান, যিনি ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত, হঠাৎ ঘোষণা করেন তিনি আর নির্বাচনী লড়াইয়ে নেই। যদিও মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় ব্যালটে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে তাঁর নামই থেকে যায়।
ভোটের দিন জাহাঙ্গির খানের বাড়ির দরজায় তালা দেখা যায়। বন্ধ ছিল স্থানীয় তৃণমূল কার্যালয়ও। এমনকি গণনাকেন্দ্রেও তৃণমূলের এজেন্টের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। উল্লেখ্য, গত ২১ মে-র ভোটে অশান্তি ও কারচুপির অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশন কঠোর নিরাপত্তায় পুনর্নির্বাচনের আয়োজন করে। তবে এবার ভোট প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ রাখতেই বিশেষ নজরদারি চালানো হয় বলে কমিশন সূত্রে খবর।