তীব্র গরম এবং ভ্যাপসা অস্বস্তিতে কার্যত নাজেহাল দক্ষিণবঙ্গ। এই পরিস্থিতিতে স্বস্তির বৃষ্টির অপেক্ষায় রাজ্যবাসী। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে হতে পারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টিও।
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান এবং বীরভূম জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হুগলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। তবে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এই বৃষ্টি সাময়িক স্বস্তি দিলেও আগামী সাতদিন গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে। কলকাতায় তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে পারদ ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।
এদিকে, সময়ের আগেই কেরলে বর্ষা ঢোকার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে মৌসম ভবন। পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের প্রায় ছ’দিন আগে অর্থাৎ ২৬ মে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। যদিও পশ্চিমবঙ্গে কবে বর্ষা ঢুকবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। সাধারণত ৮ থেকে ১০ জুনের মধ্যে এ রাজ্যে বর্ষা আসে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং আন্দামান সাগরে প্রবেশ করেছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।