রাজ্যের পাঁচটি জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন বোর্ড গঠনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি জানান, মুন্ডা, কোরা, ডোম, কুম্ভকার এবং সদগোপ জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দ্রুত পাঁচটি পৃথক বোর্ড গঠন করতে চাইছে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই বোর্ডগুলি সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণে কাজ করার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৩ সাল থেকেই আর্থ-সামাজিক ভাবে পিছিয়ে থাকা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার একাধিক উন্নয়ন বোর্ড গঠন করেছে।
যে পাঁচটি জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন বোর্ড গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে মুন্ডা ও কোরা জনগোষ্ঠীর মানুষ তফসিলি জনজাতিভুক্ত (এসটি)। ডোম সম্প্রদায় তফসিলি জাতিভুক্ত (এসসি), আর কুম্ভকার ও সদগোপ সম্প্রদায় অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত (ওবিসি)।
এই জনগোষ্ঠীগুলির মধ্যে মুন্ডা, কোরা এবং ডোম সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস মূলত রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে—যেমন বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু অংশে। অন্যদিকে সদগোপ ও কুম্ভকার সম্প্রদায়ের মানুষ রাজ্যের প্রায় সব জেলাতেই ছড়িয়ে রয়েছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, উন্নয়ন বোর্ড গঠনের ঘোষণার নেপথ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের অঙ্কও কাজ করছে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল বিজেপি। যদিও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কিছুটা জমি পুনরুদ্ধার করে এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্র বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।
এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘অসম্মান’ করা নিয়ে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাও রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির বিধাননগরে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি। নিরাপত্তাজনিত কারণে অনুষ্ঠানস্থল বদল হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে রাজ্য প্রশাসন ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন কেন তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে রাজ্যের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’ করার অভিযোগ তোলে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এই ইস্যুতে তৃণমূলকে নিশানা করেন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল নেতৃত্ব পাল্টা জবাব দেন।
ঘটনাচক্রে, এই বিতর্কের আবহেই তৃণমূল সাংসদেরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আদিবাসী সমাজের উন্নয়নে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের খতিয়ান তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত এই বৈঠকের জন্য সময় দেওয়া সম্ভব নয়। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সপ্তাহে ফের রাষ্ট্রপতির কাছে সাক্ষাতের সময় চেয়েছে তৃণমূল।