বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে টানা পাঁচ দিন ধর্মতলায় ধরনা কর্মসূচি করার পর এবার রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে পথে নামার ডাক দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, আগামী সোমবার রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বড় মিছিল সংগঠিত করবে তৃণমূল কংগ্রেস।
গত শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ধর্মতলায় পাঁচ দিনের ধরনা কর্মসূচিতে তৃণমূল সুপ্রিমোর পাশে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে ‘জয়’ বলে দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধরনা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান অভিষেক। সেই প্রেক্ষিতেই দেশের শীর্ষ আদালতের উপর আস্থা রেখে আপাতত ধরনা কর্মসূচি স্থগিত করেন তৃণমূল নেত্রী।
তবে এরই মধ্যে রান্নার গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের উপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। পাশাপাশি সময়মতো রান্নার গ্যাস না পাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমজনতার দুর্ভোগের প্রতিবাদেই আবার পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রান্নার গ্যাসের সংকটের জন্য সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকেই দায়ী করেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত ১২ বছরে রান্নার গ্যাসের দাম প্রায় ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে এক হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। বড় সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১০০ টাকা। এর ফলে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের খরচ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেও কেন্দ্র আগাম ব্যবস্থা কেন নিল না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন মমতা।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবারের মিছিলে প্রতীকী রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হতে পারে। পাশাপাশি মোদি সরকার বিরোধী পোস্টার ও প্ল্যাকার্ডও দেখা যেতে পারে মিছিলে।
অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকেও ঝালিয়ে নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে খবর, নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই জোরকদমে প্রচারে নামবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ১৭ তারিখের পর উত্তরবঙ্গ থেকে তিনি প্রচার শুরু করতে পারেন বলেও দলীয় মহলে আলোচনা চলছে।
এছাড়া রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিতে ৪০ জন রাজ্যস্তরের মুখপাত্র বেছে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি সাংগঠনিক জেলায় ২ থেকে ৪ জন করে মুখপাত্র নিয়োগ করা হয়েছে। বুধবার থেকেই তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন। জেলার মুখপাত্ররা স্থানীয় রাজনৈতিক ঘটনা ও তার জনজীবনে প্রভাব তুলে ধরবেন। আর রাজ্যস্তরের মুখপাত্ররা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিষয় এবং রাজ্যজুড়ে আলোচিত ঘটনাগুলিতে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন।