বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। দমদমের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে এই অভিযান চালানো হচ্ছে যাতে প্রার্থীদের প্রচারে বাধা দেওয়া যায়। তাঁর কথায়, প্রার্থীদের কার্যত ‘নজরবন্দি’ করে রাখা হচ্ছে।
শুক্রবার ভোরে রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মনোহরপুকুরের বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়কর দফতরের আধিকারিকরা তল্লাশি চালান। পরে তাঁর শ্বশুরবাড়িতেও অভিযান হয়। এই পরিস্থিতিতে প্রচার বন্ধ রেখে বাড়িতেই থাকতে হয় প্রার্থীকে। বিষয়টি উল্লেখ করে মমতা বলেন, এতে প্রার্থীর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন নষ্ট হচ্ছে এবং তাঁর সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ইডি, সিবিআই ও আয়কর—সব কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধীদের চাপে ফেলার চেষ্টা করছে বিজেপি। তিনি বলেন, সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ে না নেমে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আবেদন জানান এবং বলেন, কোনও নির্দিষ্ট দলের হয়ে নয়, দেশের স্বার্থে কাজ করা উচিত।
এই ঘটনার জেরে তৃণমূলের অন্দরে উদ্বেগ বাড়ছে। মমতা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, আরও নেতাদের বাড়িতে তল্লাশি হতে পারে। কাউন্সিলরদের সতর্ক থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই, লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। কোচবিহারের সভা থেকেও তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান এবং দাবি করেন, ভোটের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে এই ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে শুধু দেবাশিস কুমারই নন, ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থীর প্রস্তাবক মিরাজ শাহ-সহ কলকাতার একাধিক জায়গায় আয়কর দফতরের তল্লাশির খবর সামনে এসেছে। সল্টলেক, মিডলটন স্ট্রিট ও কালীঘাট-সহ বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় অভিযান চালানো হয়। ফলে ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।