ভোটার তালিকা সংশোধন ও এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্কের মাঝেই ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নামঞ্চে উঠে এল নতুন অভিযোগ। উত্তর ২৪ পরগনার একটি রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রেসিডেন্ট দাবি করলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও এসআইআর তালিকায় তাঁর নাম নেই।
শুক্রবার ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে উপস্থিত হয়ে এই অভিযোগ জানান ওই সন্ন্যাসী। তাঁকে মঞ্চে বক্তব্য রাখার সুযোগও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
ওই সন্ন্যাসী বলেন, “আমি রামকৃষ্ণ সারদা মিশন থেকে এসেছি। আজ ১৪ বছর হল মিনাখাঁ রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রেসিডেন্ট। তা সত্ত্বেও আমার নাম বাতিল করা হয়েছে। আমি বেলুড় মঠের দশম প্রেসিডেন্ট স্বামী বীরেশ্বরানন্দের মন্ত্রশিষ্য। আজ দিদির কাছে এসেছি। যদি এভাবে চলতে থাকে, তা হলে দেশের অবস্থা খুব খারাপ হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ধর্নামঞ্চ থেকে বলব—সত্যের জয় হোক। এসআইআর যাতে উঠে যায়, তার জন্য ঠাকুর-মা-স্বামীজির কাছে প্রার্থনা করছি।”
এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে নথিপত্র দেখাতে বলেন। মমতা বলেন, “কাগজগুলো দেখিয়ে দিন। ২০০২ সালেও আপনার নাম ছিল বলছেন।”
ওই সন্ন্যাসী যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের নথিপত্র দেখাচ্ছিলেন, তখন নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, “আমি এখানে এমন সাত জনকে হাজির করব, যাঁদের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মৃত বলে দেখানো হয়েছে। পাঁচ লক্ষ জ্যান্ত মানুষকে মৃত বলে দেখানো হয়েছে।”
এসআইআর প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সেই আবহেই মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নামঞ্চে এই অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল।