প্রথম পাতা খবর ‘তরুণদের উদ্বেগ ন্যায্য, প্রতিবাদ করলেই দেশদ্রোহী নয়’— নিট আন্দোলন প্রসঙ্গে বড় বার্তা মোহন ভাগবতের

‘তরুণদের উদ্বেগ ন্যায্য, প্রতিবাদ করলেই দেশদ্রোহী নয়’— নিট আন্দোলন প্রসঙ্গে বড় বার্তা মোহন ভাগবতের

8 views
A+A-
Reset

মুম্বই: সাম্প্রতিক নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের আবহে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি স্বীকার করে নিলেন, তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ ও উদ্বেগের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। একইসঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, প্রতিবাদ করলেই কাউকে দেশদ্রোহী বলা যায় না।

বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে ‘ইন্ডিয়াজ় ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশন্‌স’-এর বার্ষিক অনুষ্ঠানে দেশের প্রায় ১০০টি শহর থেকে আসা ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় ২ হাজার স্কুল-কলেজ পড়ুয়ার সঙ্গে মতবিনিময় করেন সংঘপ্রধান।

নিট প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সম্প্রতি যা ঘটেছে, সে বিষয়ে তরুণদের উদ্বেগ ও অভিযোগ ন্যায্য। তারা যে প্রশ্ন তুলেছে, তার যুক্তিগ্রাহ্য উত্তর দেওয়া প্রয়োজন।”

আন্দোলনের সময় কিছু রাজনৈতিক নেতা আন্দোলনকারীদের ‘দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যা দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে ভাগবত বলেন, “তরুণ প্রজন্ম যদি প্রতিবাদ করে, তা হলেই তারা দেশদ্রোহী হয়ে যায় না। তারা আমাদেরই পরবর্তী প্রজন্ম।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের প্রজন্ম আমাদের প্রজন্মের চেয়ে বেশি সৎ। দেশভক্তি এবং দেশসেবার আন্তরিক মনোভাব রয়েছে তাদের।”

তবে প্রতিবাদের পদ্ধতি নিয়েও মত প্রকাশ করেন সংঘপ্রধান। তাঁর মতে, গণতন্ত্রে প্রতিবাদ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের সময় আমরা বড়দের কথা শুনতাম। এখনকার প্রজন্ম প্রশ্ন করে এবং যুক্তিসঙ্গত উত্তর চায়। এটাকে ইতিবাচকভাবেই দেখা উচিত।”

দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও পেলেট ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, “ঘটনার সব তথ্য এখনও আমার জানা নেই। তবে যদি চোখ বন্ধ করে কাউকে বিশ্বাস করতে বলা হয়, আমি জেন জি-দের উপরই ভরসা রাখব।”

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন আরএসএস প্রধান। তিনি বলেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা দুর্বলতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তা অমূলক নয়। তবে শিক্ষা শুধু চাকরির জন্য হওয়া উচিত নয়। তাঁর কথায়, “কর্মসংস্থান মানে শুধু চাকরি নয়, উদ্যোক্তা তৈরিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”

শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর পক্ষেও সওয়াল করেন ভাগবত। একইসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, সমাজকেও এই কাজে এগিয়ে আসতে হবে।

সামাজিক অন্তর্ভুক্তির প্রসঙ্গেও খোলামেলা অবস্থান নেন সংঘপ্রধান। সমপ্রেমী এবং রূপান্তরকামী মানুষদের ভারতীয় সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন না রেখে একসঙ্গে বসবাসের উপযুক্ত আইনি কাঠামো থাকা উচিত।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.