কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী শিবিরে বিভাজন, বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে আইনি জট এবং ‘আসল’ তৃণমূল কারা, সেই প্রশ্নের আবহে এবার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি)-সহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচন হবে ভোটাভুটির মাধ্যমে। আগামী ৫ জুলাই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে মঙ্গলবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ।
সাধারণত বিধানসভার রীতি অনুযায়ী পিএসি, পাবলিক আন্ডারটেকিং কমিটি-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির চেয়ারম্যান পদ বিরোধী দলের জন্য সংরক্ষিত থাকে। বিরোধী দল মনোনয়নের ভিত্তিতে চেয়ারম্যানের নাম ঠিক করে এবং তা কার্যত সর্বসম্মতিক্রমেই অনুমোদিত হয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী আসনে বসা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ভাঙন দেখা দেয়। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জনই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি তুলে বিরোধী দলনেতার পদও নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে ওই শিবির। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সেই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। ফলে বিরোধী দলনেতা হিসেবে আইনত কাকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, তা এখনও বিচারাধীন।
এই অচলাবস্থা কাটাতেই চারটি কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচনে ভোটাভুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিধানসভা সূত্রের খবর। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে। ১ জুলাই মনোনয়নপত্র যাচাই হবে এবং ২ জুলাই বিকেল ৩টা পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। ভোটগ্রহণ হবে ৫ জুলাই।
ভোটে অংশ নেবেন বিরোধী শিবিরের ৮৭ জন বিধায়ক, যার মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস, সিপিএম, আইএসএফ এবং তৃণমূলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। প্রতিটি কমিটিতে নির্বাচিত সদস্যের সংখ্যা ২০।
বিধানসভা সূত্রে খবর, পিএসি চেয়ারম্যান পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এগিয়ে রয়েছে। ওই শিবিরের তরফে ফিরহাদ হাকিমের নাম সামনে এসেছে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এখনও তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নির্বাচন শুধুমাত্র কমিটির চেয়ারম্যান বাছাইয়ের ভোট নয়, বরং বিরোধী শিবিরের প্রকৃত শক্তি নির্ধারণেরও এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে চলেছে। ফলে ৫ জুলাইয়ের ভোটের দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।