সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি, কাটমানি ও কমিশন নেওয়ার অভিযোগ অতীতে বহুবার সামনে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা আনতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর, সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে পণ্য ক্রয়, পরিষেবা গ্রহণ এবং বিভিন্ন কাজের বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশন (সিভিসি)-এর নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে অর্থ দফতরের তরফে জারি হওয়া এক নির্দেশিকায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতদিন সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে মূলত রাজ্যের নিজস্ব আর্থিক বিধি বা ‘ফিনান্সিয়াল রুলস’ অনুসরণ করা হলেও, নতুন নিয়ম অনুযায়ী সেই বিধির পাশাপাশি সিভিসির নির্দেশিকাও মেনে চলতে হবে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, অতীতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, সরকারি খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা এবং কেনাকাটা ও বরাত প্রক্রিয়াকে আরও জবাবদিহিমূলক করে তোলা।
অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সমস্ত দফতরকে অবিলম্বে এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে। সরকারি কাজের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব, কমিশন নেওয়া বা অস্বচ্ছতার অভিযোগ কমাতে নতুন নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে প্রশাসনের একাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিভিসির নিয়ম কার্যকর হলে সরকারি টেন্ডার ব্যবস্থায় নজরদারি আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং দুর্নীতির সম্ভাবনা কমানোর ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।