ভোটপর্ব শেষ হতেই স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে কলকাতায়। শুক্রবার সকালে বেলেঘাটা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজা পৌঁছন ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে। মূলত নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতেই তাঁদের এই পরিদর্শন বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য ব্যালট আগমনের খবর থাকায় দলীয় এজেন্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশও দিয়েছেন কুণাল।
সকালে সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমে গিয়ে ফুটেজ পরীক্ষা করেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, আগের রাতে ব্যাটারির আলোয় কিছু লোককে ব্যালট সরাতে দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। যদিও শুক্রবার সকালে সেই নির্দিষ্ট স্ক্রিনে আর কোনও অস্বাভাবিক নড়াচড়া চোখে পড়েনি। তবে বিকেলের দিকে আবার কিছু ব্যালট আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক কার্যকলাপ’-এর অভিযোগ তোলা হয়। যদিও নির্বাচন কমিশন সেই অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে, স্ট্রংরুম সম্পূর্ণ সিল করা রয়েছে এবং কোনও ধরনের কারচুপির সুযোগ নেই। কমিশনের দাবি, কিছু আধিকারিক ব্যালট সাজানোর কাজ করছিলেন, সেই দৃশ্যই ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এই বিতর্কের মাঝেই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে নিরাপত্তা আরও কড়া করা হয়েছে। একজন এসিপি এবং ডিসিপির নেতৃত্বে নজরদারি চলছে। ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি, শুক্রবার সকালে পুরুলিয়ার একাধিক গণনাকেন্দ্রও পরিদর্শন করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। ভোট গণনার আগে এই ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা দাবি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে রাজ্যে। সব পক্ষই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেও, চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।