কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে দলীয় কাউন্সিলরদের সরে দাঁড়ানোকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এবার দায়িত্বপূর্ণ পদ ছাড়লেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ ও অরূপ চক্রবর্তী। এর আগেই পদত্যাগ করেছিলেন দেবলীনা বিশ্বাস। ফলে কলকাতা পুরসভার অন্দরে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।
সূত্রের খবর, ১২ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুশান্ত ঘোষ। অন্যদিকে, ‘মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটি’র দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অরূপ চক্রবর্তী। কয়েকদিন আগেই ৯ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছিলেন দেবলীনা বিশ্বাস। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ধারাবাহিক পদত্যাগ দলীয় অন্দরের অসন্তোষেরই ইঙ্গিত বহন করছে।
শুধু এই কয়েকজনই নন, আরও কিছু কাউন্সিলর গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়তে পারেন বলেও জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যদিও দলীয় নেতৃত্বের তরফে এখনও এই বিষয়ে স্পষ্ট কোনও অবস্থান জানানো হয়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ঠিক একদিন আগেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে তিনি জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দিয়ে তিনি রাস্তায় নেমে কাজ করার বার্তাও দেন।
মেয়র পারিষদ তারক সিং অবশ্য বিষয়টিকে সরাসরি ভাঙন বলতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, দলের বর্তমান নেতৃত্বের উচিত বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে আলোচনায় বসা এবং সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা। একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, দলের অন্দরে মতপার্থক্য রয়েছে এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নও উঠছে।
অন্যদিকে, বিরোধী শিবির থেকে কটাক্ষও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, শুধুমাত্র পদ ছাড়লে হবে না, যদি সত্যিই আপত্তি থাকে তবে কাউন্সিলর পদ ও দল— দুটোই ছেড়ে দেওয়া উচিত। তাঁর কটাক্ষ, “এভাবে পদ ছেড়ে আলোচনায় আসার চেষ্টা করা হচ্ছে মাত্র।”