পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায়
১৯২৬ সাল। ৩ সেপ্টেম্বর। আর পাঁচটা পরিবারে যেমন শিশুর জন্ম হয়, তেমনই সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী চপলা দেবীর কোল জুড়ে জন্মগ্রহণ করলেন এক শিশু। অত্যন্ত ছাপোষা বাঙালি পরিবারের সন্তান। ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠছে সে।
একদিন মামার বাড়িতে এলেন দাদামশায়ের গুরুদেব। অনেক দিন পর তাঁর আগমন। তিনি সিদ্ধপুরুষ—তাঁকে প্রণাম ও শ্রদ্ধা জানাতে ব্যস্ত সবাই। গুরুদেব চপলা দেবীর বাবাকে বললেন, তিনি চপলার ছেলেকে আশীর্বাদ করতে এসেছেন। এ কথা শুনে সবাই চপলা দেবীকে ডাকলেন।
নবজাতককে কোলে নিয়ে চপলা দেবী গুরুদেবের পায়ে প্রণাম করে কয়েক মাসের শিশুটিকে তাঁর সামনে ধরলেন। গুরুদেব কিছুক্ষণ ধ্যানস্থ হলেন। চোখ নিমীলিত অবস্থায় কিছুক্ষণ থাকার পর সস্নেহে তাকালেন সদ্য মা হওয়া চপলা দেবীর কোলজুড়ে থাকা সেই শিশুটির দিকে। তৎক্ষণাৎ অবিশ্বাস্য ভাবে দুধের শিশু আপনমনে হাত-পা নাড়তে নাড়তে এক চিলতে হাসি হেসে উঠল।
সেই হাসি দেখে গুরুদেব বিমোহিত হয়ে চপলা দেবীকে বলেছিলেন, “বুঝলি রে মা, তোর এই ছেলের এই হাসি ভুবনভোলানো হাসি। দেখে নিস, এই উত্তম হাসি লক্ষ লক্ষ প্রাণে দাগ কেটে যাবে। তাই ওর নাম আমি দিলাম ‘উত্তম’।”
এই ঘটনা জানা যায় উত্তম কুমারের আত্মজীবনী থেকে।
যদিও তাঁর নাম ছিল অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। সেই নামেই তিনি অভিনয়জীবনের শুরুতে অভিনয় করেছেন, কিন্তু সাফল্য পাননি। এরপর ১৯৫২ সালে ‘বসু পরিবার’ এবং ১৯৫৩ সালে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে তিনি মা চপলা দেবীর কথায় নিজের নাম ‘উত্তম কুমার’ হিসেবে ব্যবহার করেন। আর এক অলৌকিক ঘটনা যেন ঘটে গেল—সেই নামেই তিনি হয়ে উঠলেন বিশ্ববন্দিত, বিশ্বসমাদৃত। আজও তিনি বাঙালির অন্তরে অন্তরে।
বলা যায়, উত্তম কুমার বাঙালির তিন-চার প্রজন্মের অন্তরে যুগোত্তীর্ণ ‘নায়ক’, তথা ‘মহানায়ক’ হিসেবে বিরাজমান। তাই তাঁর জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনের এই দিনে শ্রদ্ধায় বলা যায়—‘মহানায়ক উত্তম কুমার’ বাঙালির অন্তরে অন্তরে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, আজও আছেন, আগামী দিনেও থাকবেন।