ভোটার তালিকা সংশোধন ও আপিল প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সহজ করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্যের সিইও দপ্তর। শুক্রবার প্রকাশিত বিশেষ নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এবার থেকে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আপিল অনলাইন ও অফলাইন—দুইভাবেই জমা দেওয়া যাবে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল-এর দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, বিচারাধীন আবেদনগুলির জন্য নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালে আলাদা বিভাগ তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভোটাররা সেখানে গিয়ে সরাসরি অনলাইনে আবেদন জমা দিতে পারবেন।
অন্যদিকে, অফলাইন ব্যবস্থাও চালু রাখা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের সাধারণ কাগজে নিজেদের পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য ও পরিচয়পত্রের নম্বর উল্লেখ করে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। এই আবেদন জমা নেওয়া হবে জেলাশাসক বা মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, জমা পড়া সমস্ত আবেদন ও নথি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, মূল আবেদনপত্র অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে। ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যে সমস্ত আবেদন ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে, সেগুলির নিষ্পত্তির দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের উপরেই বর্তাবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এসআইআর প্রক্রিয়ার পর প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও অতিরিক্ত তালিকায় প্রায় ৫০ লক্ষের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, তবুও বহু ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আপিল প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে ২৩টি জেলার জন্য ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালে রয়েছেন টিএস শিবজ্ঞানম, বিশ্বজিৎ বসু, রঞ্জিতকুমার বাগ এবং সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়-সহ মোট ১৯ জন বিচারপতি। কোনও ভোটারের নাম যদি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হয় বা বাদ দেওয়া হয়, তবে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এই ট্রাইব্যুনালে আপিল করার সুযোগ থাকছে। নির্বাচন কমিশনের এই নতুন উদ্যোগে আপিল প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।