পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এসে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পেশ করলেন প্রার্থীরা। এদিন দুপুরে বিধানসভায় গিয়ে মনোনয়ন জমা দেন বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের চার প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়, কোয়েল মল্লিক, রাজীব কুমার ও মেনকা গুরুস্বামী।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তাঁরা। এদিন তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক অভিজ্ঞ মন্ত্রী ও দলের নেতারা।
তৃণমূলের চার প্রার্থীর মধ্যে রাজনৈতিক বৃত্তের বাইরে থেকে এসেছেন তিনজনই। প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমারের সঙ্গে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকলেও অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক এবং আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী সম্পূর্ণ ভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর মেনকা গুরুস্বামী বলেন, “আমি সংবিধান মেনে কাজ করার পক্ষে—সে সংসদ হোক বা আদালত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে রাজ্যসভায় যাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। তাঁদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সংবিধান মানুষের সমানাধিকার নিশ্চিত করে, সেই অধিকারের জন্য লড়াই করার সুযোগ পেলাম।”
অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ। আমি সবসময় মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি। সেই দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেলাম।”
অন্যদিকে প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমার নিজের প্রতিক্রিয়ায় মাদার টেরিজাকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন,“এটা আমার জন্য বড় সম্মান। মাদার টেরিজার একটি কথা মনে পড়ছে—আমি যার যোগ্য, তাই পেয়েছি। এই সুযোগ দেওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ।”
তৃণমূলের আরেক প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় আগে দু’বার লোকসভার সাংসদ এবং একবারের বিধায়ক ছিলেন। এবার তিনি রাজ্যসভার মাধ্যমে সংসদের উচ্চকক্ষে যাচ্ছেন।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর বাবুল বলেন, “ভোটে জিতে এসে কাজ করা এক ধরনের প্রিপেড ব্যবস্থা। আগে মানুষের ভোটে জেতা, তারপর মানুষের জন্য কাজ করা। আগে গানের অনুরোধ আসত, সেখানে পারফর্ম করতাম। পরে লোকসভায় জিতে মানুষের সমস্যার সমাধানে কাজ করেছি। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আবার আমার উপর ভরসা করেছেন। মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পেলাম।”
রাজ্যসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস তাদের চার প্রার্থীকে সামনে রেখে সংসদের উচ্চকক্ষে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব আরও জোরদার করার বার্তা দিয়েছে।