নিজস্ব সংবাদদাতা: দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যেই অনির্দিষ্টকালের অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সাফদরজং হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত এক হাতে লেখা বার্তায় তিনি জানান, সংসদ ভবনে আন্দোলনকারী যুব প্রতিনিধিদের সাংসদদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ না দেওয়া হলে কিংবা তাঁকে হাসপাতাল থেকে সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তাঁর অনশন চলবে।
ওয়াংচুক লিখেছেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ দেখে তিনি মর্মাহত। তাই আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার সাম্প্রতিক বিতর্ক এবং পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।
সরকার ও দিল্লি পুলিশের উদ্দেশে ওয়াংচুক আবেদন জানিয়েছেন, আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবদের সংসদের সামনে তাঁদের দাবি তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হোক। তাঁর দাবি, আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবেই নিজেদের বক্তব্য পেশ করতে চান এবং ভবিষ্যতেও শান্তি বজায় রাখবেন।
এদিকে সিজেপির ‘সংসদ চলো’ অভিযানে সোমবার দিল্লির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার যুবক-যুবতী অংশ নেন। তাঁদের অভিযোগ, চাকরির সংকট, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমেছে। সেই কারণেই এই বিক্ষোভ।
দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে মিছিল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে। টেলিভিশনের ফুটেজে কয়েকটি জায়গায় লাঠিচার্জের ছবি দেখা গেলেও দিল্লি পুলিশ বলেছে, পরিস্থিতি “পেশাদারিত্বের সঙ্গে” সামাল দেওয়া হয়েছে এবং বলপ্রয়োগ করা হয়নি। তবে সংসদ ভবনের কাছে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। অন্যদিকে, কয়েকটি জায়গায় কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে পাথর ছোড়েন বলেও জানা গিয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আন্দোলনকারীরা জানান, প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগে দুর্নীতির অবসান ঘটানোই তাঁদের মূল দাবি। তাঁদের বক্তব্য, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই আন্দোলন।
প্রসঙ্গত, সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে গত মাসে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান আন্দোলন শুরু করেন। গত ২৮ জুন সেই আন্দোলনে যোগ দিয়ে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। সোমবার সকালে তিনি তিনটি শর্ত পূরণ হলে অনশন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিলেও, পরে পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।