নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুধবার সংসদ চত্বরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একদিকে বিজেপি, অন্যদিকে বিরোধী জোট— দুই পক্ষের সাংসদদের স্লোগানযুদ্ধে সরগরম হয়ে ওঠে সংসদ চত্বর। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে নিরাপত্তারক্ষীদের মানববন্ধনী তৈরি করে দুই পক্ষকে আলাদা করতে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিক্ষোভ চলাকালীন সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস বিজেপি নেতা অরুণ সিংহের হাত থেকে একটি পোস্টার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে দুই পক্ষের মাঝে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। যদিও তার পরেও দীর্ঘক্ষণ ধরে পাল্টাপাল্টি স্লোগান চলতে থাকে।
নিট ইস্যুতে বিজেপির অভিযোগ, সরকার সংসদে আলোচনা করতে প্রস্তুত থাকলেও কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনায় অংশ না নিয়ে সংসদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে। পাল্টা কংগ্রেসের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিষয়ে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেওয়ার সাহস দেখাচ্ছেন না।
এদিকে, দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
এই আবহেই সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি লেখেন, অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণায় সন্তুষ্ট নয় বিরোধীরা। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) মোদীর পোস্ট শেয়ার করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানায়।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও সমাজমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বর্তমান সরকারের আমলে। রাহুলের দাবি, শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস হতে দেওয়া হয়েছে এবং এই ঘটনার জন্য দায়ীদের রক্ষা করা হয়েছে।
নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত যেমন সংসদের ভিতরে ও বাইরে তীব্র হচ্ছে, তেমনই ছাত্র-যুবদের আন্দোলনও নতুন মাত্রা পাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনেও রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।