জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র (Birth and Death Certificate) ইস্যু করার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার থেকে আর পঞ্চায়েত প্রধান বা পুরপ্রধান এই শংসাপত্র দিতে পারবেন না। পরিবর্তে শুধুমাত্র সরকারের নিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরাই জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু করবেন। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল।
মুখ্যসচিব জানান, জন্ম শংসাপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই নথি নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার সময়ও জন্ম শংসাপত্রে বিভিন্ন অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। পুলিশের কাছেও ভুয়ো শংসাপত্র সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জাল শংসাপত্র ব্যবহার করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে একাধিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে গোটা রাজ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব বণ্টন করা হবে। কোনও আধিকারিক দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন মুখ্যসচিব।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ১৯৯৭ সাল থেকে নথিভুক্ত সমস্ত জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ধাপে ধাপে যাচাই করা হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার (ডেটাবেস) তৈরি করা হবে, যা পরবর্তীতে কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট পোর্টালের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।
যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষাও চালানো হবে। যাঁদের কাছে বৈধ শংসাপত্র নেই, তাঁদের শুনানির সুযোগ দিয়ে প্রয়োজনীয় নথি প্রদান করা হবে। অন্যদিকে, তদন্তে অবৈধ বা জাল শংসাপত্র প্রমাণিত হলে তা বাতিল করা হবে।
সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আশ্বাস দিয়ে মুখ্যসচিব বলেন, এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ প্রশাসনিক। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তিনি স্পষ্ট করেন, শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিকরাই এই যাচাইয়ের কাজ করবেন, কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে না।
এদিকে, জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্রে গরমিলের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। কলকাতা, দুর্গাপুর, নদিয়া, বীরভূমের সিউড়ি, রামপুরহাট, দুবরাজপুর এবং কোচবিহার-সহ একাধিক পঞ্চায়েত ও পুরসভায় তদন্তকারীরা অভিযান চালান। বিভিন্ন দফতর থেকে রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু ও যাচাই প্রক্রিয়ায় এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়বে এবং জাল নথি রোধে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে প্রশাসন।