বিধানসভা ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা পুলিশ পর্যবেক্ষককে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হল পশ্চিমবঙ্গে। মালদহ জেলার চারটি কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ পর্যবেক্ষক জয়ন্ত কান্তকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলের দাবি, জয়ন্ত কান্তের স্ত্রী বিহারের একজন বিজেপি নেত্রী। এই অভিযোগ সামনে এনে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। তাঁদের বক্তব্য, “যাঁর স্ত্রী বিজেপির নেত্রী, তিনি কীভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করবেন?”
তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেন ব্রাত্য ও পার্থ। একটি ছবিতে জয়ন্ত কান্তের সঙ্গে এক মহিলাকে দেখা যায়, যাঁকে তৃণমূল বিজেপি নেত্রী বলে দাবি করছে। আরও একটি ছবিতে সেই মহিলাকে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে বিজেপির মঞ্চে দেখা গিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এই ছবিগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
জানা গিয়েছে, মালদহের মোথাবাড়ি, বৈষ্ণবনগর, মানিকচক এবং সুজাপুর—এই চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন জয়ন্ত কান্ত। এই কেন্দ্রগুলি বিহার সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে তৃণমূল।
ব্রাত্য বসু অভিযোগ করে বলেন, “দিল্লি থেকে এ ধরনের অফিসার পাঠিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি মিলেই পশ্চিমবঙ্গকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।” তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, “বাকি যাঁদের আনা হয়েছে, তাঁদের আত্মীয়দের রাজনৈতিক পরিচয়ও খতিয়ে দেখা উচিত।”
উল্লেখ্য, জয়ন্ত কান্ত একজন আইপিএস অফিসার। তৃণমূলের প্রকাশ করা তালিকা অনুযায়ী তিনি উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের হলেও বর্তমানে বিহারে কর্মরত।
এই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সোমবারই নির্বাচন কমিশন ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করায় তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ পর্যবেক্ষককে নিয়ে নতুন অভিযোগ সামনে এল।
এর আগেও নির্বাচন প্রক্রিয়া ঘিরে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। এবার পুলিশ পর্যবেক্ষককে কেন্দ্র করে বিতর্ক আরও তীব্র হল। এখন দেখার, শাসকদলের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন কী প্রতিক্রিয়া জানায়।